পোড়া লাশের ছাইয়ে আজও স্বজনদের হাহাকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আশুলিয়ার সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে স্বজনদের। বুকভরা শোক আর পোড়া লাশের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা পরিবারগুলোর একটাই দাবি, আন্দোলনকারীদের হত্যা করে মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিনও আশুলিয়ায় থামেনি সহিংসতা। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার নথি অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যার পর আশুলিয়া থানার সামনে একটি ভ্যানে স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মরদেহে। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন সজল (২৩), আশুলিয়া শাহীন স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আস-সাবুর (১৫), ভাওয়াল বদরুল আলম সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীতানজিল আহমেদ সুজয় (১৯), চাকরিজীবী বায়জিদ (২৩), আবুল হোসেন (৩৩) ও ওমর ফারুক।
ওমর ফারুকের বড় ভাই মামুন মিয়া জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর নিখোঁজ হন তার ভাই। বিভিন্ন হাসপাতাল ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ২৮ আগস্ট আশুলিয়া থানায় গিয়ে একটি ছবি দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন তারা। এরপর জানতে পারেন, আমবাগান এলাকায় দাফন করা হয়েছে তাকে। মামুন বলেছেন, ‘ভাইয়ের শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি আমরা। যেভাবে তাকে হত্যা করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার বিচার না হলে আমাদের এই কষ্ট কোনোদিন কমবে না।’
আবুল হোসেনের স্ত্রী লাকী আক্তার জানালেন, তার স্বামী চাকরি করতেন আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকায়। ঘটনার পর নিখোঁজ হন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহ পোড়ানোর ভিডিওতে পোশাক দেখে স্বামীর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয় তার।
নিহত স্কুলছাত্র আস-সাবুরের মা রাহেলা জান্নাত ফেরদৌসীজানিয়েছেন, ছেলে ৫ আগস্ট আন্দোলনে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন বিকালে পরিবারের সদস্যরা তার পোড়া মরদেহের সন্ধান পান।
মামলার বাদী রাহেলা বলেছেন, ‘আমি নিজেই হত্যা মামলার বাদী হয়েছি। সন্তানের শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না। কিন্তু যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি হলে অন্তত মনে হবে, আমার ছেলের রক্তের বিচার হয়েছে।’






