১৪ বছরেও চালু হয়নি পাঠদান

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের মালভবানীপুর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পার হলেও সেখানে এখনো শুরু হয়নি পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি অচল থাকায় হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে বিদ্যালয়ের জন্য দান করা জমি ফেরত চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জমিদাতা।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০০ সালে। ২০০১ সালে পাঠদানের অনুমতি এবং অস্থায়ী স্বীকৃতি মেলে ২০০৩ সালে। সে সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাহিদুল ইসলাম। পরে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও বিদ্যালয়ে চালু করা সম্ভব হয়নি নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১০ সালের পর বিভিন্ন জটিলতায় কার্যত বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। ২০১১ সালে নতুন করে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পুরোপুরি অচল ছিল বিদ্যালয়টি। ২০১৮ সালে আবার শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় ভেস্তে যায় সেটিও।
এর মধ্যে ২০২০ সালে একজন শিক্ষক এবং ২০২২ সালে আরও একজন শিক্ষক ও তিনজন নিম্ন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো চালু হয়নি বিদ্যালয়টি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি অচল থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের জন্য দান করা জমি।
হতাশ কণ্ঠে জমিদাতা মো. ইয়াহিয়া বললেন, ‘এলাকার মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি হবে— এই আশা থেকেই জমি দান করেছিলাম। কিন্তু এত বছরেও বিদ্যালয় চালু হলো না। জমি পড়ে থেকে কোনো কাজে আসছে না। তাই এখন জমি ফেরত চাই।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বণিক আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বিদ্যালয়টি। বিষয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডে লিখিত আবেদন করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জমিদাতাকে। বিদ্যালয়টির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






