জ্বালানি সংকটে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে মন্দা, ফাঁকা হোটেল-রিসোর্ট

জ্বালানি সংকটে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে মন্দা, ফাঁকা হোটেল-রিসোর্ট
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের মন্দা। পর্যটক না থাকায় হোটেল-রিসোর্টগুলো পড়ে আছে প্রায় ফাঁকা।
আয় কমে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ।
সম্প্রতি উপজেলার রাধানগর এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, যেখানে সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে থাকে সরগরম, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। নেই পর্যটকদের কোলাহল, নেই আগের মতো যানজট বা ব্যস্ততা। অধিকাংশ রিসোর্টে কক্ষ খালি পড়ে আছে। আগে আগাম বুকিং ছাড়া যেখানে রুম পাওয়া যেত না, এখন সেখানে অতিথির সংকট স্পষ্ট।
স্থানীয়রা জানান, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে কমে গেছে পর্যটকদের আগমন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণকারীরা জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে স্থগিত করছেন ভ্রমণ পরিকল্পনা। যারফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে এই পর্যটননির্ভর অঞ্চলের অর্থনীতিতে।
নভেম ইকো রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক মো.সোহাগ হোসাইন বলছিলেন, আগে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকত, বর্তমানে তা কমে নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে।
একই চিত্র স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতেও। পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসা প্রায় স্থবির। রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের সহকারী ব্যবস্থাপক দীলিপ পাশি জানাচ্ছিলেন, আগে সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকলেও এখন রেস্টুরেন্ট থাকে প্রায় ফাঁকা। এতে পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসানের মুখে।
তিনি আরও জানালেন, জ্বালানি সংকট শুধু পর্যটক কমায়নি, ব্যবসা পরিচালনাও করে তুলেছে কঠিন। জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি করা যাচ্ছে না সংগ্রহ। পেট্রোল পাম্পে বোতলে তেল না দেওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাও হয়ে পড়েছে সীমিত। এর সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং, যা সমস্যাকে করছে আরও জটিল।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঈদের পর এই সময়টিতে সাধারণত শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। বর্ষা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার কথা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে তার ব্যতিক্রম।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বললেন, এ সময়টিতে সাধারণত বাড়ে পর্যটকদের ভিড়, কিন্তু এবার অধিকাংশ রিসোর্টেই কক্ষ পড়ে আছে ফাঁকা, যা ব্যবসার জন্য বড় ধাক্কা।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ জানালেন, বর্তমানে অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টে খালি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ নিয়েও তৈরি হয়েছে চাপ।
সংশ্লিষ্টরা মত দেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু পর্যটন নয়, এই খাতের ওপর নির্ভরশীল হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও গাইডসহ হাজারো মানুষের জীবিকা পড়বে হুমকির মুখে।


