শ্রমিকদের ক্ষোভে রাজশাহী থেকে সারা দেশে বন্ধ বাস

ছবি: আগামীর সময়
মোটরশ্রমিকদের কর্মবিরতিতে রাজশাহীতে সকাল থেকে বন্ধ আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল। বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে হঠাৎ বাস না পেয়ে সকাল থেকে বিপাকে পড়েছেন শ শ যাত্রী। বিষয়টি সমাধানে আলোচনা চলছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় পরিবহন নেতারা।
আজ সোমবার সকাল থেকে চলছে পরিবহন শ্রমিকদের এই কর্মসূচি। কারণ জানতে চাইলে তারা বলছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন গতকাল রবিবার জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করে। এতে সভাপতি করা হয় রফিকুল ইসলাম পাখিকে এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুমিনুল ইসলাম মুমিন।
রফিকুল ইসলাম এর আগে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সেসময় তার নেতৃত্বে শ্রমিকদের ওপর হামলা হয়েছিল— এমন অভিযোগ তুলেছে শ্রমিকদের একাংশ।
ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ভাষ্য, কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, নেওয়া হয়নি তাদের কোনো মতামত। এই কমিটি বাতিল করে অস্থায়ীভাবে একটি আহ্বায়ক বা অ্যাডহক কমিটি গঠনের দাবি তাদের। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবিও তুলেছেন তারা।
প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়ে আশ্বাস দিলে বাস চলাচল স্বাভাবিক করবেন, বলছেন শ্রমিকরা।
হঠাৎ অচলাবস্থায় রাজশাহীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা গেছে। বিকল্প যানবাহনের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী মো. শাওন বললেন, ‘জরুরি কাজে আমি ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে গতকাল বিকালে দেশ ট্রাভেলসে টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু সকালে কাউন্টারে এসে দেখি বাস বন্ধ করে দিয়েছে। আমি ঢাকায় যেতে পারলাম না।’
কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কে বা কারা বাস বন্ধ করেছে, তা জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম হেলাল বললেন, ‘নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। বিষয়টি এরই মধ্যে মাননীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। আমরা সমাধানের জন্য পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেছি। আশা করছি, দ্রুত এর সমাধান হবে।’




