কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
খাবারের মান খারাপ, পরিমাণেও কম

হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি থাকায় অনেক সময় খাবারও পান না সবাই। এতে একদিকে রোগীদের বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে স্বজনদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। রোগীদের দাবি, সরকারি খাদ্যতালিকা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে না খাবার। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে খাবার, মানও নিম্নমানের। আবার হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি থাকায় অনেক সময় খাবারও পান না সবাই। এতে একদিকে রোগীদের বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে স্বজনদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার। তাদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে খাবার। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আশ্বাস, অভিযোগ খতিয়ে দেখে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
হাসপাতালের খাবারে পেট ভরে না একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের -ফাতেমা আক্তার, রোগীর স্বজন
সরেজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের দুপুরের খাবারের জন্য রান্না করা হচ্ছে মুরগির মাংস। রান্নার দায়িত্বে থাকা খায়রুল হোসেনের দাবি, হাসপাতালের শয্যা ৫০টি হলেও বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০০। খাবার রান্না করা হয় ৫০ জনের হিসাবেই। সবাইকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না।’ তিনি জানিয়েছেন, বাজারদর বেশি হওয়ায় নিয়মিত খাসির মাংস দেওয়া হয় না। ঠিকাদার যে বাজার দেন, সেটিই রান্না করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি রোগীদের জন্য প্রতিদিন জনপ্রতি ১৭৫ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এর আওতায় সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহের কথা। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী দুপুর ও রাতে ৪০০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে তিন দিন মাছ, তিন দিন মুরগির মাংস এবং এক দিন খাসির মাংস দেওয়ার কথা। সকালে দুটি সেদ্ধ ডিম, চিড়া, চিনি ও একটি সবরি কলা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
যে পরিমাণ বরাদ্দ পাই, সে অনুযায়ীই খাবার দিই -আহমদ আলী, খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার
তবে চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিযোগ, বাস্তবে সরবরাহের মিল নেই খাদ্যতালিকার সঙ্গে। মাছের পরিবর্তে প্রায়ই দেওয়া হয় মুরগির মাংস। মাংসের টুকরাও নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অনেক ছোট। কলার আকারও ছোট এবং নিম্নমানের। খাবারের পরিমাণ কম হওয়ায় বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
চিকিৎসাধীন আতিয়ার রহমানের দাবি, ‘সকালের নাশতায় যে পরিমাণ চিড়া, ডিম ও চিনি দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয় না। দুটির জায়গায় দেওয়া হয়েছে একটি ডিম। পাঁচ দিন হাসপাতালে আছি, কিন্তু খাদ্যতালিকায় থাকা খাসির মাংস পাইনি একদিনও।’ আরেক রোগী আছিরন বেগম দাবি করেন, ‘হাসপাতালের ভাত ও তরকারির মান ভালো নয়। অনেক রোগী খাবার ফেলে দেন। তাই বাধ্য হয়ে স্বজনরা বাইরে থেকে খাবার এনে দেন।’
জসিম শেখ নামের এক রোগীর বক্তব্য, ‘চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ নেই। কিন্তু খাবারের মান ও পরিমাণ খুবই খারাপ। ছোট এক টুকরা ব্রয়লার মুরগির মাংস দিয়ে একজন অসুস্থ মানুষের চাহিদা পূরণ হয় না।’ রোগীর স্বজন ফাতেমা আক্তার বললেন, ‘হাসপাতালের খাবারে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পেট ভরে না। তাই আমরা বাড়ি থেকে খাবার এনে দিই।’
অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা -মো. রেহনেওয়াজ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
অভিযোগ অস্বীকার করে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাবিব স্টোরের স্বত্বাধিকারী আহমদ আলী বললেন, ‘আমি ৩৬ বছর ধরে হাসপাতালে খাবার সরবরাহ করছি। যে পরিমাণ বরাদ্দ পাই, সেই অনুযায়ীই খাবার দিই। রোগীদের অভিযোগ সঠিক নয়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেহনেওয়াজের আশ্বাস, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। হাসপাতালে খাবারসহ সব বিষয় তদারকির জন্য একটি কমিটি রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিয়ে পরিদর্শন করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের পর খাবার সরবরাহের নতুন দরপত্র আর আহ্বান করা হয়নি। একটি মামলার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থগিত থাকায় একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩৬ বছর ধরে হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহ করে আসছে।




