ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারতীয় মিত্রবাহিনী স্মরণে ‘মৈত্রীস্তম্ভের’ উদ্বোধন

মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর শহিদ সদস্যদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’। ছবি: আগামীর সময়
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মদানকারী সদস্যদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভের’ আজ উদ্বোধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনাড়ম্বর আয়োজনে উদ্বোধনটি করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদ।
এ সময় উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মৈত্রীস্তম্ভটি কেবলই বিনোদনকেন্দ্র নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের নিদর্শন। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম একাত্তরের যুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানবে।
উদ্বোধন শেষে ডিসি আবু সাঈদ জানালেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন এটি পড়ে ছিল। এর মূল্যবান স্থাপনা ও বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। একারণে আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য মৈত্রীস্তম্ভে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ২০ টাকা।
প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এরপর এস ফোর্সের প্রধান লে. কর্নেল কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের মিত্রবাহিনী যৌথভাবে আশুগঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়।
৯ ডিসেম্বর রাতে মিত্রবাহিনী সদস্যরা আশুগঞ্জের সোহাগপুর ও কামাউড়া এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মিত্রবাহিনীর ১৬০০ সদস্য শহিদ হন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আশুগঞ্জের এই ঘটনা ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণে ২০১৭ সালে ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন একর ৬০ শতাংশ জায়গাজুড়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।








