খানসামায় ফসল নষ্ট ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ, তদন্ত দাবি সাবেক জামায়াত আমিরের

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের খানসামায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমন ধানের ফসল নষ্ট, বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
রবিবার সন্ধ্যায় খানসামা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক খানসামা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আতাউর রহমানের ছেলে বিপ্লব। এ সময় তিনি তার বাবা ও পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ১৬ অক্টোবর ভোরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের আমন ধানের ফসল নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে জমির বিরোধ ও ফসল নষ্টের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং অভিযোগের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবারটির অভিযোগ, একই দিন সন্ধ্যায় একদল লোক তাদের বাড়িতে জড়ো হয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায় এবং দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, নলকূপ ও বিদ্যুতের মিটার ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি একটি টেলিভিশন, স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলেও লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের বাড়িতে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
পরিবারটির দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে তারা বলেন, ফসল নষ্টের ঘটনার সঙ্গে ওই নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে ১৭ অক্টোবর এবং অন্যদের ১৮ অক্টোবর জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে জামিনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ ও নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।




