ময়মনসিংহ
পৌরসভার জনবলে চলছে সিটি
- সিটি করপোরেশন হয়েছে ৮ বছর
- আয়তন বেড়েছে ৪ গুণ
- জনসংখ্যা ৯ লাখ

ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০১৮ সালে দেড়শ বছরের পুরনো ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পৌরসভার তুলনায় আয়তন বাড়ে চার গুণ। কিন্তু কলেবর বাড়লেও বাড়েনি সংস্থাটির সেবার মান। কারণ পুরনো পৌরসভার জনবল কাঠামোতেই চলছে সিটি করপোরেশনের কাজ।
প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বাড়তি চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি, নগরবাসীকে দ্রুত সেবা প্রদান, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজ।
ইতিহাস বলছে, ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল নাসিরাবাদ পৌরসভা গঠিত হয়। পরে এটির নাম হয় ময়মনসিংহ পৌরসভা। পৌরসভা থাকাকালে এর আয়তন ছিল ২১ দশমিক ৭৩ বর্গকিলোমিটার। ওয়ার্ড ছিল ২১টি।
সিটি করপোরেশন হওয়ার পর এলাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ১৭৩ বর্গকিলোমিটারে, ওয়ার্ড হয় ৩৩টি। একই সঙ্গে বাড়ে জনসংখ্যা, যা এখন ৯ লাখের বেশি।
আয়তন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, সব বাড়লেও বাড়েনি জনবল। বিলুপ্ত পৌরসভার ২৩২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে সিটি করপোরেশনের সেবা ও দাপ্তরিক কাজ। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হচ্ছে সেবা।
সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানালেন, ১ হাজার ১৩২ জনের একটি সাংগঠনিক কাঠামোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগে। সেখান থেকে তা পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। ২০২১ সালে মন্ত্রণালয় ৭৪৭ জন জনবলের অনুমোদন দেয়। এরপর তা পরিমার্জন করে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে জনবল অনুমোদন দেয় ৬৩০ জন। এই সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ছিল সচিব কমিটির সভায় উপস্থাপনের পর্যায়ে। কিন্তু সাংগঠনিক কাঠামোতে কিছু করণিক ভুল ও অসামঞ্জস্যতা থাকায় তা সংশোধন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের পর্যায়ে আছে।
সিটি করপোরেশনে বর্তমানে নগর পরিকল্পনাবিদ একজন, নাম মানস বিশ্বাস। তিনি মনে করেন, একাধিক নগর পরিকল্পনাবিদ থাকলে কাজ সহজ হতো, লোকজন সেবা পেতেন আরও দ্রুত।
পৌরসভার আমল থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগে একজন চিকিৎসক। দায়িত্বরত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এইচ কে দেবনাথ বললেন, ‘সিটি করপোরেশনের পাঁচজন চিকিৎসক থাকার কথা। আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোয় চিকিৎসক থাকলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে পারতেন কয়েকশ রোগী।’
সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর এখানে ১৩ জন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। তারা করপোরেশনের পুরো কাজ দেখভাল করছেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন জানালেন, তিনি সেবা কার্যক্রম এবং জনভোগান্তি নিরসনে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বর্তমান জনবল দিয়ে।
একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে তিনি সরকারের উচ্চ মহলে যোগাযোগ রাখছেন। তার বিশ্বাস, সিটি করপোরেশনের অনেক সমস্যারই সমাধান হবে সরকারের আন্তরিকতায়।






