সিলেটে তিন খুন: বিমানবন্দর থেকে মর্গে ছুটলেন দুই মেয়ে

সিলেটের এই বাড়িতে (বাঁয়ে) হত্যার শিকার প্রবীণ দম্পতি (ডানে)। ছবি: আগামীর সময়
সিলেট মহানগরের নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার প্রবীণ দম্পতির দুই মেয়ে আজ ফিরেছেন যুক্তরাজ্য থেকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি ছুটে গেছেন নিথর বাবা-মায়ের কাছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের মরদেহ। তাদের কিশোরী গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহও রাখা সেখানে।
মর্গে পৌঁছে বাবা-মায়ের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিনা সুলতানা ও তাহমিনা সাত্তার। স্বজনদের সঙ্গে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন সেখানেই।
এরপর কোতোয়ালি থানায় যাবেন দুই বোন- জানান স্বজনরা। সেখানে হত্যা মামলার কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তারা। আগামীকাল শুক্রবার নয়াসড়কস্থ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে নিহত তিনজনের দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
নিহত দম্পতির চার সন্তানই প্রবাসী। দুই মেয়ে যুক্তরাজ্য এবং এক ছেলে-এক মেয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছেলে আরিফ ইফতেখার শুক্রবার দেশে পৌঁছাবেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল বুধবার সকালে সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী এলাকায় ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে আটক করা হয় নিহত গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের ‘প্রেমিক’ বাবুল মিয়াকে। হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন- জানায় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে ‘শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবের’ জেরে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়।
একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করেন। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বাধা দিতে গেলে হত্যার শিকার হন গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারও।বাবুল পরে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে কাছের একটি ঝোপে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে সরে যান।
এ ঘটনায় শোকাহত ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী। অভিযুক্তকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।







