মনোহরগঞ্জ
ব্যস্ততম সড়কে পশুর হাট, জনদুর্ভোগ চরমে

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হাসনাবাদ-নাথেরপেটুয়া সড়কের লক্ষণপুর বাজারে সড়কের ওপর বসছে গরুর হাট। ব্যস্ততম এ সড়কটিতে গরুর হাট বসায় বাজারে আসা সাধারণ মানুষ, পথচারী ও যাত্রীরা চলাচলে দুর্ভোগে পড়ার অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর এ সড়কে এভাবেই বসছে পশুর হাট।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসনাবাদ-নাথেরপেটুয়া সড়কের লক্ষণপুর বাজারের অংশে সড়কের দুপাশে হাতে রশি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে গরুসহ দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতা-বিক্রেতা, পাইকারসহ শত শত গরু ব্যবসায়ী। ব্যস্ততম এ সড়কটিতে গরুর হাট বসায় দেখা দিয়েছে জনদুর্ভোগ। গরু ব্যবসায়ী, পাইকার, ক্রেতা-বিক্রেতা, পথচারী, যানবাহন সব মিলিয়ে যেন সড়কটিতে লেজেগোবরে অবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে দুদিন এ সড়কটির ওপরই বসে পশুর হাট। উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট হিসেবেও এটি পরিচিত। উপজেলার তিনটি স্থায়ীভাবে ইজারাপ্রাপ্ত বাজারের মধ্যে এটি অন্যতম। সোম ও শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতেই এখানে পশুর হাট বসার কথা জানিয়েছেন বাজার ব্যবসায়ীরা। হাটবারে ক্রেতা-বিক্রেতা, পাইকারের হাঁকডাকে মুখরিত থাকে ওই সড়ক এলাকা। পাইকাররা দূর-দূরান্ত থেকে পিকআপ ভর্তি গরু নিয়ে আসেন এ হাটে। এতে সড়কটির দুপাশ থেকে আসা রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি, প্রাইভেটকার, ট্রাক্টর, পিকআপ ভ্যানসহ সব ধরনের গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার এ সড়কের ওপর বসে ভ্রাম্যমাণ হাট। সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে গরুসহ পাইকার ও ক্রেতা-বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকায় দোকান খোলা নিয়ে বিপাকে পড়ার কথা জানান তারা। হাট শেষে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা গরু-ছাগলের বর্জ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, গরু-ছাগলের বর্জ্যে সড়কটির লক্ষণপুর বাজার এলাকায় তৈরি হয় এক নোংরা পরিবেশ। আজ শুক্রবারে সড়কের ওপর গরুর হাট বসায় দোকানের সামনে গরু-ছাগলের বর্জ্য পড়ে থাকায় ক্রেতা সমাগম হয় না। ফলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানান তারা।
লক্ষণপুর বাজার ইজারাগ্রহিতা মিজানুর রহমানের ভাষ্য, এখানে পশুর হাট বসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ১৩ লাখ টাকায় এই বাজার ইজারা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বললেন, ইজারায়ও পশুর হাটের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম উল্লেখ করা নেই। বিগত সময়েও সড়কের ওপরই পশুর হাটের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খোদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনেই সড়কের ওপর বসছে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগির হাট। সেখানেও একই কায়দায় সড়ক দখল করে মিলছে পশু-পাখি ও তরকারির হাট। বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি থাকলেও বিগত দিনে সড়ক থেকে পশুর হাট ও তরকারির হাট নিরসনে কর্তৃপক্ষকে কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কথা হলে মনোহরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মাসুদুল আলম বাচ্চু জানালেন, বাজারের এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। বাজারের বিভিন্ন গলিতে অটোরিকশা অপরিকল্পিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা, সড়কের ওপর পশুর হাট ও তরকারির হাট বসায় এখানে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজার এলাকায় তৈরি হয় জনদুর্ভোগ। সমস্যা নিরসনে বাজার ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানালেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহীর সঙ্গে কথা হলে তিনি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, এ উপজেলায় তিনটি স্থায়ী পশুর হাট ও সতেরোটি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। স্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, বাকি সতেরোটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লক্ষণপুর বাজারে সড়কের ওপর পশুর হাট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, জনদুর্ভোগ তৈরি করে সড়কে পশুর হাট বসার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।




