ইলিশ বাঁচাতে অভয়াশ্রমে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা

ছবিঃ আগামীর সময়
আজ (রোববার) থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুরের ৫টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বরিশালের সদর উপজেলার চরমোনাই জুনাহার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে অভিযান পরিচালনা করবে নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর।
জাটকা ইলিশ পূর্ণাঙ্গ পরিণত করতে প্রতিবছর দুই মাস মৎস্য শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকে এসব অভয়াশ্রমে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভয়াশ্রম এলাকায় মৎস্য আহরণ করলে দুই বছরের জেল ও আর্থিক জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাকালীন বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২১ জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলেকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
বরিশালের জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তারা কর্মহীন হয়ে পড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সঠিক সময় খাদ্য সহায়তার চাল না পৌঁছলে বাধ্য হয়ে অনেক জেলে নদীতে মাছ শিকার করতে নামেন। অনেক প্রকৃত জেলে চাল ও জেলে কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করেন। প্রকৃত জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও জেলে কার্ড বিতরণের দাবি জানান তারা।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডক্টর মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোড়ালোভাবে নিষেধাজ্ঞা চলবে। আইন অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় রাত ও দিনে পাহাড়ার জন্য স্পিড বোট ও লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়াসহ এখানকার নদীগুলোর ১৯০ কিলোমিটার এলাকার ২টি অভায়শ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকার বন্ধ থাকবে। এতে জাটকা ইলিশ রক্ষাসহ সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এজন্য মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজার, জেলে পল্লী, মাছ ঘাট ও মৎস্য আড়ৎগুলোতে জেলেদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সচেতনতা সভা অব্যাহত থাকবে।
ভোলার জেলে আব্দুস সালাম ও তার সহচরী জেলেরা জানান, রোজার মধ্যে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালীন তাদের সঠিকভাবে সহায়তা দেওয়া না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে কষ্ট ভোগ করতে হবে। তাই এই সময়টিতে যেন আমাদের প্রতি সদয় আচরণ করা হয়।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বরিশাল বিভাগের অভয়াশ্রমগুলো নিরাপদ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




