প্রথমবার সুন্দরবনের নিবন্ধিত ৮২৭১ জেলে পাচ্ছেন খাদ্য সহায়তা

ছবি: মহিদুল ইসলাম
প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে বন বিভাগ ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ রাখে। এ সময় কর্মহীন হয়ে পড়েন হাজারো জেলে। এসব পরিবারের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে খাদ্য সহায়তা দিতেই ৬ বছর পর সরকারের প্রথম এই উদ্যোগ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় (২০২৬-২৭ অর্থ বছর) ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিকটন খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বন বিভাগের তথ্য মতে, সুন্দরবনের (পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগ) তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৪০ জন। পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৮ হাজার ৫৪০ জন এবং পশ্চিম বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে তালিকা ভূক্ত জেলের সংখ্যা ৯ হাজার ৪০০ জন। এদের মধ্যে প্রথম পর্যায় নিবন্ধিত ৮ হাজার ২৭১ জন জেলেকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়।
নিষিদ্ধকাল তিন মাস হলেও প্রথমবার বরাদ্দ এসেছে জুলাই ও আগস্ট মাসের। এই মাসে ৮০ কেজি করে চাল পাবেন তালিকাভূক্ত জেলে পরিবারগুলো।
এদিকে, সরকারের এই উদ্যোগে নিবন্ধিত জেলেদের মুখে হাসি ফুটলেও, এখনো অনিবন্ধিত রয়ে গেছে অসংখ্য জেলে। অনিবন্ধিত জেলেরা সংশ্লিষ্ট এাকার মৎস্য অফিসে ধর্ণা দিয়েও করাতে পারছেন না নিবন্ধন। তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।
বন বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বনজীবীদের দাবি ছিল তিন মাস বনে প্রবেশ নিষিদ্ধকালে জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা বা খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা। সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য নিষেধাজ্ঞাকালে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকলেও সুন্দরবনের বনজীবীরা ছিলেন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো এই জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
পূর্ব বন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বললেন, জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বন বিভাগের বার বার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বেকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বললেন, প্রথমবার সুন্দরবনের জেলে পরিবরকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে নিষিদ্ধকালীন কর্মহীন দরিদ্র জেলে পরিবারগুলো অনেক উপকৃত হবে। তবে বন বিভাগের তালিকাভূক্ত অর্ধেক জেলে এই সহায়তার বাইরে রয়েছেন। তাদেরকেও আগামীতে সম্পৃক্ত করা হবে।




