জলি খাতুনের ৩০ মণ ওজনের ‘মনা’, দাম হাঁকছেন ১০ লাখ

ছবি: আগামীর সময়
নিজের সন্তান নেই। মায়ের মমতা পুরোটাই দিয়েছেন সন্তানের মতো ষাঁড়টিকে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের সোন্দা গ্রামের গৃহবধূ জলি খাতুনের মমতায় ষাঁড়টির ওজন এখন ৩০ মণ।
বিয়ের বেশ কয়েক বছর পরেও সন্তান নেই জলির। স্বামী সাজ্জাদ গাজী থাকেন দুবাইতে। একাকীত্ব ভুলতে তিনি পরম স্নেহে নিজের সন্তানের মতোই গড়ে তুলেছেন ষাঁড়টিকে। নাম রেখেছেন ‘মনা’। এবারের কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কালো আর সাদা রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী ফ্রিজিয়ান ক্রসজাতের এই শান্ত প্রকৃতির ষাঁড়টিকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশালাকার অথচ শান্ত মনার কথা ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে তার বাড়িতে। খামারিদের কাছেও এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে তিন বছর আগে শাশুড়ির কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি ছোট্ট বাছুর পেয়েছিলেন জলি। ঘরের কাজের পাশাপাশি সারাদিনের একটা বড় অংশ কাটে মনার পরিচর্যায়। এটির আরাম-আয়েশের জন্য আছে ফ্যান। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখা দিয়ে মনাকে বাতাস করেন জলি। প্রচণ্ড গরমে মনাকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন তিন-চারবার গোসল করাতে হয়।
জলি জানান, কোনো কৃত্রিম উপায়ে বা ক্ষতিকারক ওষুধ দিয়ে মোটাতাজা না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় খাবার খাইয়ে মনাকে বড় করা হয়েছে। মনার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা নেপিয়ার ঘাস, ছোলা, ভুট্টা, গম, খেসারির ভুসি এবং চিটা গুড়। বর্তমানে মনার বর্তমান শারীরিক দৈর্ঘ্য প্রায় ১০.৪ ফুট ও উচ্চতা ৫.১ ফুট। প্রতিদিন খাবারের খরচ হয় প্রায় ১৫০০ টাকা। হাটে নেওয়ার মতো কোনো পুরুষ বাড়িতে না থাকায় বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চান। বিনিময়ে দাম হেঁকেছেন ১০ লাখ টাকা।
সোন্দা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, এত বড় গরু হতে পারে তা নিজ চোখে এই প্রথম দেখলাম। অনেক কষ্ট ও পরম যত্নে গরুটি লালন-পালন করেছেন জলি।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা রহিমা খাতুন। জলির বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বললেন, ‘খুব কষ্ট করে আমাদের বউমা গরুটি পুষেছে। দূর-দূরান্তের ক্রেতারা যেন সরাসরি এই বাড়িতেই আসেন।’
ষাঁড়টি দেখতে ভাটই এলাকা থেকে এসেছেন মনিরুল ইসলাম। শান্ত স্বভাবের গরুটিকে সামনাসামনি দেখে খুবই ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।
এই উদ্যোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাসেল আহমেদ বলেছেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার খামারিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই জলি খাতুন ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি তিনি বাড়ি থেকেই মনার জন্য ন্যায্য মূল্য পাবেন।






