তেল সঙ্কট
স্বামী কাজে, মোটরসাইকেলের ট্যাংকি নিয়ে পাম্পে নারী
- তিনদিনের পেট্রোল তিন ঘণ্টায় শেষ

ছবি: আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে দেশজুড়ে চলছে জ্বালানি সঙ্কট। সরকারের ভাষ্য, দেশে নেই তেলের সঙ্কট। তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্রমেই দীর্ঘতর হচ্ছে যানবাহনের লাইন। এমনই চিত্র দেখা গেল রংপুরের গঙ্গাচড়ার শিহাব ফিলিং স্টেশনে। তেল দেওয়ার খবরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে ভিড় করেন লোকজন। যানবাহনের এ দীর্ঘ সারি ছিল আধাকিলোমিটার।
২৫০০ লিটার পেট্রোল শেষ হয় মাত্র দুই ঘণ্টায়। লাইনে থাকা অনেকেই ফিরে যান তেল না পেয়ে। পেট্রোল নিতে মোটরসাইকেলের ট্যাংকি নিয়ে পাম্পে আসেন এক নারী। মাঠ থেকে শ্যালোমেশিনের ট্যাংকি খুলে নিয়ে আসেন কয়েকজন কৃষক।
মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে নিয়ে আসা নাজমা আক্তারের ভাষ্য, ‘মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় আমার স্বামী কাজে গেছে পায়ে হেঁটে। বাধ্য হয়ে ট্যাংকি নিয়ে পাম্পে এসেছি।’
‘কয়দিন থাকি মোটরসাইকেলোত তেল না থাকায় ওমরা (স্বামী) কামোত যাবার পায় না। এমতোন করি কী সংসার চলে! ঠেকাত পড়ি আইজক্যা হাঁটি বাড়ি থাকি বেরাইচে। তেল দেওয়ার খবর পায়া মুই ট্যাংকি খুলি পাম্পোত নিয়া আচ্চু।’
জ্বালানি সংকট নিয়ে এভাবে কষ্টের বর্ণনা দেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার শিহাব ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে ব্যাগে করে নিয়ে আসা নাজমা আক্তার।
তেল নিতে শ্যালোমেশিনের ট্যাংকি নিয়ে আসা নয়ন মিয়ার দাবি, ‘ফসলের ক্ষেতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না তেলের অভাবে। পাম্প মালিকরা বোতলে তেল না দেওয়ায় কষ্ট হলেও সঙ্গে নিয়ে এসেছি ট্যাংকি।’
শিহাব ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী সাহেদুজ্জামান সবুজ স্পষ্ট করেছেন, ‘গত বছর মার্চ মাসে ২৭০০০ লিটার পেট্রোল পেয়েছিলেন তিনি। কোনো সঙ্কট তৈরি হয়নি। এ বছর মার্চে একসঙ্গে পেয়েছেন অন্তত ২৮০০০ লিটার পেট্রোল। কিন্তু তিন দিনের পেট্রোল তিন ঘণ্টায় শেষ।’ বৃহস্পতিবার অন্তত শতাধিক জেনারেটর ও সেচযন্ত্রে তেল সরবরাহ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, জ্বালানি সঙ্কটে শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া হয়েছে বেশকিছু পদক্ষেপ। প্রত্যেক পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে অভিযান পরিচালনাসহ করা হচ্ছে জেল-জরিমানা। এছাড়াও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভাবছি ভিন্ন কৌশল।

