মেহেরপুরে অপরিপক্ক কাঁঠাল পাকছে বিষে

ছবি: আগামীর সময়
মেহেরপুরের বিভিন্ন বাগানে ও রাস্তার দু-পাশের পরিত্যক্ত জমিতে অযত্ন-অবহেলায় বড় হওয়া গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। বাম্পার ফলন হওয়ায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছরই এখানকার কাঁঠাল চলে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। স্থানীয় অর্থনীতিতে এই ফলের অবদানও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্ভাবনাময় এই রসালো ফলকে ঘিরেই মেহেরপুরে শুরু হয়েছে এক বিপজ্জনক খেলা। কাঁঠাল পাকার সুনির্দিষ্ট সময় এখনো না আসলেও একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করে অপরিপক্ক কাঁঠাল পাকাচ্ছেন, যা মানবদেহের জন্য মরণঘাতী হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুরে এবার ১৬৩ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের বাগান রয়েছে, যেখান থেকে ৯ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাইরের জেলা থেকে ব্যাপারীরা এসে ভিড় করছেন স্থানীয় বাগানগুলোতে। তবে সমস্যা বাঁধছে কাঁঠাল গাছ থেকে পাড়ার পর।
রামনগর গ্রামের বাগান মালিক ইদ্রিস আলী জানান, তিনি তার এক বিঘা জমির কাঁঠাল বিক্রি করেছেন ঢাকার এক ব্যাপারীর কাছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, 'আমরা চাষিরা গাছে কোনো কেমিক্যাল প্রয়োগ করি না, প্রাকৃতিক নিয়মেই বয়স অনুপাতে কাঁঠাল সংগ্রহ করি। কিন্তু ব্যাপারীরা গাছ থেকে কাঁঠাল নামিয়েই সেগুলোতে কেমিক্যাল স্প্রে করছে, যা পুরোপুরি অন্যায়।'
তবে কেমিক্যাল ব্যবহারের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ঢাকা থেকে আসা কাঁঠাল ব্যবসায়ী শাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতিবছরই তিনি মেহেরপুর থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করে ট্রাকে করে বিভিন্ন শহরে নিয়ে যান। তার দাবি, কেমিক্যাল দিলে দু-একদিনের মধ্যেই সব কাঁঠাল একসঙ্গে পেকে যায়, এতে তাদের বিক্রি করতে সুবিধা হয়। তবে এই কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
এই বিষাক্ত কেমিক্যালের ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে পুষ্টিবিদ তরিকুল ইসলাম জানালেন, 'কাঁঠাল পুরোপুরি পরিপক্ক হওয়ার আগেই যদি বিষ বা অন্য কোনো কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়, তবে এর ভেতরের আসল পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। একই সাথে কাঁঠাল তার স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধও হারিয়ে ফেলে।'
চিকিৎসক মো. খোকন রেজা এ বিষয়ে সতর্ক করে জানান, মৌসুমী ফল হিসেবে কাঁঠাল মানবদেহে প্রচুর পরিমাণের পুষ্টির জোগান দেয়, যা অনেকেই হয়তো গুরুত্ব দেন না। কিন্তু অপরিপক্ক কাঁঠালে যে ধরনের কেমিক্যাল স্প্রে করা হচ্ছে, তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে মানুষের হজমশক্তি কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সনজিব কুমার মৃধা জানান, মেহেরপুরের উৎপাদিত কাঁঠাল অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখলেও এই মুহূর্তে কাঁঠাল কেবল সবজি বা তরকারি হিসেবে খাওয়ার উপযোগী। তাঁর মতে, 'কাঁঠাল পাকাতে কেমিক্যাল প্রয়োগ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি আমরা নজরে নিয়েছি এবং সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।'






