এমপি জয়নুল
মীরগঞ্জ সেতুতে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য

বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন
বরিশালের বাবুগঞ্জ ও মুলাদীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
তিনি বলেছেন, সেতুটি নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলে শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
আজ রবিবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় সেতু নির্মাণবিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, মীরগঞ্জ সেতু এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। বিভিন্ন সময়ে সেতু নির্মাণ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হয়। তবে কোনো অপপ্রচারই এ উদ্যোগকে থামাতে পারেনি। এটি বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সেতুটি নির্মাণে এখন আর কোনো বাধা নেই।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ফেরিনির্ভর যোগাযোগের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ ও শিল্পায়নের পথ সুগম হবে।
সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন সংসদ সদস্য। বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চান তিনি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-হিজলা-মুলাদী মহাসড়কের (জেড-৮০৩৪) অষ্টম কিলোমিটারে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৪৮৪ মিটার। প্রকল্পের আওতায় আরও প্রায় ৪ হাজার ৪৭৩ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ, টোল প্লাজা স্থাপন ও নদীতীর রক্ষার কাজ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বাড়বে। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি, বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ফারহানা হোসনা, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এবং সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



