বকেয়া বুঝে পেতে ইউএনওর কাছে ৪ চা বাগানের শ্রমিক

বকেয়া আদায়ে ইউএনওর কাছে আবেদন পত্র দিচ্ছেন চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি
বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি, ৪৫ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), চিকিৎসা ও আবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন পাওনা পরিশোধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা। একই সঙ্গে মালিকপক্ষ বাগান পরিচালনায় ব্যর্থ হলে সরকারি তত্ত্বাবধানে বাগান পরিচালনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগান, চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ ও দেউন্দি চা বাগান এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকদের পক্ষে বাগান পঞ্চায়েত কমিটি মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন জমা দেয়।
আবেদনে শ্রমিকরা উল্লেখ করেন, গত ২৬ মে চুনারুঘাট-মাধবপুর এলাকার সংসদ সদস্যের বাসভবনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে দেউন্দি টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ওয়াহেদুল হক কয়েক ধাপে বকেয়া মজুরি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। আংশিক অর্থ পরিশোধ করা হলেও শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পাওনা এখনো বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ।
শ্রমিকদের দাবি, ৪৫ মাসের পিএফ, চিকিৎসা সুবিধা, আবাসন সুবিধা, এরিয়া ভাতা ও অন্যান্য পাওনাও দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন রয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আবেদনপত্রে শ্রমিকরা বলেছেন, ‘যারা নির্ধারিত সময়ে সাপ্তাহিক মজুরি দিতে পারছে না, তারা কীভাবে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পিএফ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। তাই প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
এর আগে আর্থিক সংকটের কারণে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। গত ২৫ মে থেকে মিরতিংগা, নোয়াপাড়া, লালচান্দ ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকরা একযোগে কর্মবিরতি পালন করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ না হওয়ায় ঈদুল আজহার আগে তাদের পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
সে সময় বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং এ কারণেই শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের পর শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও তাদের সব দাবি এখনো পূরণ হয়নি।
আবেদনের অনুলিপি নোয়াপাড়া, লালচান্দ, দেউন্দি ও মিরতিংগা চা বাগানের ব্যবস্থাপক, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গল এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল রেলী জানান, চারটি বাগানেই দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পাচ্ছেন না।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ আগামীর সময়কে বললেন, বাগানের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। কর্তৃপক্ষ তাদের বকেয়া পরিশোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহেদ বিন কাশেমের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।





