ছেলে হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় বাবাকে কুপিয়ে জখম

ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের বাবা ওমর খৈয়ামের (৭০) ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাকে কুপিয়ে জখম করার পর গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ইমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পরিচিত কিলার জাহিদ বোরকা পরে এবং তার সহযোগীরা মুখে মাস্ক পরে ওমর খৈয়ামের বাড়িতে আসে। সেখানে মামলা প্রত্যাহার না করায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।
পরিবারের ভাষ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা ওমর খৈয়াম ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় কিলার জাহিদ, ফেরদৌস, ভুট্টা মাসুদ, গিট্টু রিপন, রনি, আদর, আপন, জসীম, সেলিম, পারভেজ, চক্ষু হৃদয়, সাবু, হোটেল মাসুদ, হৃদয়, ফাইটার মনির, শাওন, রবিন, গলা কাটা হৃদয়, রিয়াজ, নূরাসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়।
পরিবারের দাবি, মামলা পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাদের মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় ওমর খৈয়ামের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জাহিদ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই এলাকায় তিনি ‘কিলার জাহিদ’ নামে পরিচিত।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, জাহিদকে গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চলছে। তিনি ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।





