লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতাল
পরীক্ষার যন্ত্র আছে সেবা নেই

ছবি: আগামীর সময়
১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতাল। প্রায় চার বছর আগে ২০২২ সালে দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য সেখানে প্যানটা ফোর হান্ড্রেড নামে একটি মেশিন দেওয়া হয়; কিন্তু সেটি চার বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে হাসপাতালের ল্যাবে। চালু করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে চালু হয়নি, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। এতে প্রতিদিন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে ল্যাবের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন নারী-পুরুষসহ শত শত লোক। কেউ রিপোর্ট নেওয়ার জন্য, কেউ বা পরীক্ষা করানোর জন্য; কিন্তু কাজ না হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন ব্যর্থ মনে। ফলে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন অনেকেই। আবার সদর হাসপাতালে দু-তিনটি পরীক্ষা করা গেলেও বাকিগুলোর জন্য পাঠানো হচ্ছে বাইরে।
চিকিৎসা নিতে আসা আবুল কালাম বললেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ। কাজ করে কত টাকাইবা পাই? সরকারি হাসপাতালে কম পয়সায় চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসি; কিন্তু এখানে সেবা না পেলে কোথায় যাব?’
হাসপাতালের সেবার মান খুবই খারাপ জানিয়ে নাসির হোসেন নামে আরেকজন বললেন, ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সাধারণ মানুষ হাসপাতালে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে দালালদের ফাঁদে পড়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের।’
মো. আলাউদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী বললেন, ‘আমার জন্ডিস হয়েছে। কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছেন ডাক্তার; কিন্তু এখানে দুটি পরীক্ষা করানো হয়েছে। বাকিগুলো হবে না বলছে। আবার পরীক্ষার রিপোর্ট দুদিন পর দেবে বলছে। তাহলে সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে এসে লাভ কী?’
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আবু জাফরের বক্তব্য, ‘মেশিনটি মাল্টিফাংশনাল অটোমেটেড বায়োকেমিস্ট অ্যানালাইজার। বর্তমানে সদর হাসপাতালে যে সেবা দেওয়া হয়, এই মেশিন চালু করা গেলে
অনেক পরীক্ষা একসঙ্গে দ্রুত সময়ে করা যাবে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। মানসম্মত ও নির্ভুল সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ডাক্তার ও রোগীদের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে। আমি যতটুকু জানি, মেশিনটি ২০২২ সালে দেওয়া হয়েছে। নানা জটিলতার কারণে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।’
জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীনের আশ্বাস, ‘মেশিনটি চালু করার দায়িত্ব রি-এজেন্টের। এটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।’




