মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলেমদের ভূমিকা রাখার আহ্বান ড. মারুফের

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তা'লিমুল কোরআন হিফজ মাদ্রাসায় বক্তব্য দিচ্ছেন ড. মারুফ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দেশের ইসলামি বিশেষজ্ঞ, খতিব ও ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরলে মানুষ সচেতন হবে। এতে বিভ্রান্ত যুবসমাজকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে।’
আজ বুধবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দির কাটারাপাড়া তা'লিমুল কোরআন হিফজ মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে ২৭তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘এ দেশে ৯০ শতাংশ মুসলিমের বসবাস। রাজধানী ঢাকা 'মসজিদের শহর' হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। দেশের সম্মানিত খতিব, ইমাম ও ইসলামি পণ্ডিত ব্যক্তিরা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে শরিয়াহসম্মত পরামর্শ ও নির্দেশনা দিলে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মসজিদের মুসল্লি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকসহ হারাম বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলে সবাই সচেতন হবে। এতে বিভ্রান্ত মানুষ দ্রুত দ্বীনের পথে ফিরে আসবে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্ত যুবসমাজ কখনো দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এরা সমাজের কলঙ্ক, বোঝা। মাদককে সবাই না বলুন। সামাজিকভাবে এদের বয়কট করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও দেশের সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেশাগ্রস্ত যুবসমাজ মারাত্মক অন্তরায়। বিপথগামী নেশাগ্রস্ত যুবসমাজকে ইসলামের শান্তির পথে ফেরাতে হবে। তাহলেই জাতি দ্রুত শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।’
ইসলামে মাদক নিষিদ্ধ উল্লেখ করে ড. মারুফ বলেন, ‘আমরা নবী মুহাম্মদ (স.)-এর উম্মত হয়ে অত্যন্ত গর্বিত। ইসলাম মাদক তথা নেশাদ্রব্যকে হারাম করেছে। মাদক কখনো মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
দেশে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের আশঙ্কাজনক বিস্তারকে উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মাদক বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।’
মুসলিম ও তিরমিজি শরিফে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তু হারাম। নবী মুহাম্মদ (স.) আরও বলেছেন, যে বস্তু বেশি পরিমাণে নেশা সৃষ্টি করে, তা অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেও হারাম।’
ড. মারুফ বলেন, ‘ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বৈধ পণ্যের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের মরণছোবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বর্জন করে মাদকের ব্যবহার ও কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে। তাহলেই একটি আলোকিত সমাজ গঠন সম্ভব হবে।’
এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের অভিজাত শ্রেণির মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ওয়ায়েজ মাওলানা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, পৌর যুবদলের শরীফ চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রোমান খন্দকার, শাহনাজ ভূঁইয়া ও জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজি। মাদ্রাসার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আশরাফুর রাহিম ইমন সরকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।



