শিবির সভাপতি
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি কমলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে

ছবি: আগামীর সময়
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতি, দালালচক্র, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রভাব- সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে রোগীর দুর্ভোগ কমবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদ্দাম আরও বললেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের বারবার অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়- এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রভাবও চিকিৎসা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান।
তার ভাষ্য, অনেক চিকিৎসকের চেম্বারে বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, বিনিময়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওষুধ লেখার শর্ত থাকে। এ ধরনের সংস্কৃতি রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিবিরের এই নেতা বললেন, দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি এখনো বড় সমস্যা। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে প্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ মানুষের বিপরীতে একজন চিকিৎসকের তথ্য পাওয়া যায়। সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও বাস্তবতা হলো, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি বললেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৬৯ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এটি যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর সম্প্রসারণও প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানালেন, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্নীতি ও দালালচক্রের শিকার হন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
চিকিৎসকদের প্রসঙ্গেও তিনি বলেছেন, একজন দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হতে দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কর্মজীবনের শুরুতে অনেক নবীন চিকিৎসক যথাযথ আর্থিক মূল্যায়ন পান না। ইন্টার্নশিপকালীন ভাতা এবং চাকরির শুরুর দিকের সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
তিনি আরও বললেন, উচ্চশিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করবে- এটাই হওয়া উচিত। স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে মানবিক মূল্যবোধ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি রমিজ মুত্তাকীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, রাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুহুল কুদ্দুস এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।




