কুষ্টিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪০

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস - আগামীর সময়
কুষ্টিয়ার মিরপুরে সেনাসদস্যবাহী বাস ও সাধারণ যাত্রীবাহী আরেক বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনায় সেনাসদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া সেনানিবাস থেকে নতুন রিক্রুট সেনাসদস্যদের বহনকারী একটি বাস খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসের দিকে যাচ্ছিল। পথে তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা 'হিমেল পরিবহনের' একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেনাসদস্যদের বহনকারী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় হিমেল পরিবহনের যাত্রী জিয়াউল ইসলাম (৪৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। এছাড়া সেনাসদস্য ও সাধারণ যাত্রীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেছে।
আহত একাধিক সেনাসদস্য জানান, তারা বগুড়া থেকে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে যোগদানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রী আহত হয়েছেন।
হিমেল পরিবহনের যাত্রী মামুন অর রশীদ বলেন, আমি জামালপুরে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ঈদের ছুটি শেষে খুলনার বাড়ি থেকে জামালপুর ফিরছিলাম। পথে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো। বাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অনেককে আনা হয়েছে হাসপাতালে। একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, সেনাসদস্যবাহী বাসটিতে ৪২ জন নতুন রিক্রুট ছিলেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।






