নোয়াখালীতে ডাকাতির অভিযোগে চারজন গ্রেপ্তার, টাকা উদ্ধার

নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার বাকের হোসেন ওরফে অনু। সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত দলের সদস্যরা হলেন, উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুরের বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২), একই ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮), অশ্বদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিরঞ্জনপুরের সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) এবং মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫)।
আজ মঙ্গলবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।
তিনি জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে শ্রীপুরের মোশারফ হোসেন ফরহাদের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ও কাঠের দরজা ভেঙে ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন, লকেট ও আংটি, একটি রুপার ব্রেসলেট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মামলা করেন মোশারফ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত করে পুলিশ।
এসপি নাসিরুদ্দিনের ভাষ্য, গত রবিবার চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা থেকে বাকেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই দিন বিকালে নোয়াখালীর দরবেশপুর এলাকা থেকে কোরবানকে এবং পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকা থেকে সাইদুল ও আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাইদুলের কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় ও একটি লোহার স্টিক জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ডাকাত দলে আটজন সদস্য ছিল। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
এসপি নাসিরুদ্দিন বলেছেন, ‘গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বাকেরের বিরুদ্ধে ৩টি, কোরবানের বিরুদ্ধে ১২টি, সাইদুলের বিরুদ্ধে ১১টি এবং আসিফের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি কোরাবারি (লোহার তৈরি হাতুড়ি বা শাবল জাতীয় দণ্ড) ও একটি ভাঙা তালা জব্দ করেছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।







