কেরানীগঞ্জে শ্রমিক সেড থেকে ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ফার্নিচার কারখানার শ্রমিকদের আবাসিক সেড থেকে মো. বাবু (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা লুট করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার দ্বীন ফার্নিচার কারখানার তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মো.বাবু দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রতিদিন ব্যবসা শেষে তিনি ওই ফার্নিচার কারখানার শ্রমিকদের জন্য নির্মিত আবাসিক সেডে রাতযাপন করতেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় তিনি সেখানে একাই অবস্থান করছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আবাসিক সেড থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে কারখানার দারোয়ান বিষয়টি টের পান। পরে স্থানীয়দের জানানো হলে একটি কক্ষের ভেতরে মো.বাবুকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে মরদেহ।
নিহতের চাচা আসলাম ভান্ডারী দাবি করেন, মো. বাবু ছোটবেলা থেকেই তার কাছেই বড় হয়েছেন। গত তিন দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ঘটনাস্থলে এসে তারা জানতে পারেন, কম্বল মোড়ানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, বাবুকে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা লুট করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে রহস্যজনক উল্লেখ করে দাবি জানিয়েছেন সুষ্ঠু তদন্তের।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
তিনি আরও বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঘটনা তিন থেকে চার দিন আগে ঘটেছে। মরদেহে পচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।




