জামায়াত আমির
সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আমাদের ছবক দেন

বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান— সংগৃহীত
‘সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আমাদের ছবক দেন। এইটা সংবিধান, ওইটা সংবিধান, এইটা ধারা, ওইটা ধারা। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে চাই সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় আছে সংসদে আপনি সংবিধান সংশোধন কমিটি করতে পারবেন, মেহেরবানি করে সেটা দেখিয়ে দেন।’
আজ শনিবার বিকালে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১-দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে কথাগুলো বলছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘শুনলাম সংসদের ভেতরেই তারা আওয়াজ দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করলেন, আমরা এটা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এখন নাকি তারা আকিকা করছে নতুন নামে। জনগণের সঙ্গে আর কত ছলচাতুরি করবেন। পদে পদে মিথ্যা বলবেন, ধোঁকা দেবেন। পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
তিনি আরও বললেন, ‘২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। লাখ লাখ মামলা মাথায় নিয়ে জেলে গিয়েছে। সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে, এমনকি স্ত্রী হারিয়েছে। তবুও মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশের মানুষ তুড়ি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা হাজার চেষ্টা করেও ওই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন। আসল ফ্যাসিবাদকে মানুষ পাত্তা দেয়নি, ডামি ফ্যাসিবাদ কিসের।’
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, ‘গণভোটে আপনারা হ্যাঁ বলেছিলেন। হ্যাঁ বলার মাধ্যমে তারা জানিয়ে দিয়েছেন অতীতের পচা রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই, নতুন শাসনব্যবস্থা চাই। বর্তমান সরকারি দল বলেছিল গণভোটের প্রত্যেকটা দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তারা যখন ক্ষমতায় এলেন তখন তারা বলা শুরু করলেন তারা কখনো সংস্কারের কথা বলেনি।’
‘আমরা রাজপথে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজ করতে চাই। আপনারা যেভাবে ধাক্কা দিয়ে আমাদের রাজপথের দিকে দিচ্ছেন। রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। রক্তে আগুন ধরাবেন না। এই প্রজন্মের আর পরীক্ষা নেবেন না। এরা পরীক্ষিত, এরা বিজয়ী, এরা বীর। এই জুলাইকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ৭১ আমাদের গর্ব, এটি আমাদের ইতিহাসের সোনালি অংশ। ২৪ ঢাকতে গিয়ে ৭১ ঢাকতে হবে কেন? ৭১ থাকবে ৭১-এর মর্যাদায় আর ২৪ থাকবে তার মর্যাদায়’— যোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, ‘গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। একেকটি পরিবারের ওপর ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ট্যাক্স বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কীভাবে পোষাবেন। ফ্যামিলি কার্ডে দেবেন আড়াই হাজার, দাম বাড়িয়েছেন ৫ হাজার।’
বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।





