জুলাইযোদ্ধা সুজনের নবজাতক কন্যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

জুলাইযোদ্ধা মো. সুজনের নবজাতক কন্যা সাইফা নুর সুবহার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: আগামীর সময়
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে লিভারের দুই-তৃতীয়াংশ হারানো জুলাইযোদ্ধা মো. সুজনের নবজাতক কন্যা সাইফা নুর সুবহার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সুজনের বাসায় গিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার শিশুটির পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নবজাতকের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সুজনের শারীরিক অবস্থা এবং পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
সুজন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা তার লিভারের দুই-তৃতীয়াংশ অপসারণ করেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর পেটে ৩২টির বেশি সেলাই নিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে লিভারের এক-তৃতীয়াংশ নিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার ভাষ্য, সংসার চালাতে এখন অটোরিকশা চালান। নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত শয্যাশায়ী বাবার চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর ফলোআপ করার কথা থাকলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে বাসাভাড়া, সংসারের খরচ ও ওষুধের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। যোগ্যতা অনুযায়ী একটি সরকারি চাকরির সুযোগ পেলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সুজন আরও জানান, আহত হওয়ার কয়েক মাস পর তিনি বিয়ে করেন। বর্তমানে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য পোশাকসহ বিভিন্ন উপহার পাঠানো হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তারা সুজনের খোঁজখবর নিতে এসেছেন। আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তার জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আহত জুলাইযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সুজনের মতো আহতদের পুনর্বাসন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের বিষয়েও সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।





