পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম
রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেবে রেল

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী রেলস্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়নের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন ‘প্রতিপক্ষ’ সম্পর্ক তৈরি না হয়, সেজন্য নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাবি শিক্ষার্থীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন আহম্মদ হোসেন মাসুম।
এর আগে সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেলওয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন।
জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এর আগে শিক্ষার্থীরা রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা ব্যাহত হয়। ঘটনার পর চার রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দুই তদন্ত কমিটি, রিপোর্টের পর ব্যবস্থা
চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বললেন, কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তে রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তদন্ত ছাড়া কর্মচারী বরখাস্ত করা হয়েছে— এমন অবস্থান থেকে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বোঝানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদনের আলোকে চার কর্মচারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে রবিবার রাতের ঘটনায় চার আরএনবি সদস্য— আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সোমবার তাদের বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
ভাঙচুরের ক্ষয়ক্ষতি দেখে আইনি পদক্ষেপ
রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেছেন, বিষয়টি এখন মূল্যায়ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তাই একটি ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকায় সার্বিক বিষয়টি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেলওয়ের জিএম বললেন, প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের বৈঠকে হওয়া আলোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানালেন তিনি।
রবিবার রাতে ভাঙচুরের সময় রাজশাহী স্টেশনে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল হওয়ায় ট্রেনের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন। পরদিন সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একই ট্রেনের চলাচলও প্রভাবিত হয়।
‘শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে না’
সর্বশেষ ঘটনা নিয়ে রেলওয়ে ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে আহম্মদ হোসেন মাসুমের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, রেলওয়ে ও শিক্ষার্থীরা যেন পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে না যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিপক্ষ হতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন রেলওয়ের এই কর্মকর্তা।
তার ভাষ্য, রাবি প্রশাসনের সঙ্গে মাঝেমধ্যে বৈঠক হবে। আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেছেন, কোনো সমস্যা হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। জনগণের সম্পদের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘যাত্রীরা যেন কোনোভাবে ভুক্তভোগী না হন’
রবিবার রাতে স্টেশনে ভাঙচুরের সময় ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রীরা সেখানে ছিলেন বলে জানালেন আহম্মদ হোসেন মাসুম। তাদের মধ্যে ছোট শিশুও ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রেলওয়ের জিএম বললেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের কোনো সমস্যা হলে তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। কিন্তু সাধারণ যাত্রীরা যেন কোনো ঘটনার কারণে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেন তিনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, রেলওয়ের সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে। কিন্তু সাধারণ যাত্রী ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
রবিবার রাতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে রেলওয়ে ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছিল বলেও জানালেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা আর কোনো পদক্ষেপ নেবে না— বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এর আগে রেলওয়ের কর্মচারীদের মধ্যে চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানালেন তিনি। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজে ফেরানো হয়। সোমবার সকাল থেকে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।





