জমির বিরোধে দেড় শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমির বিরোধে কাটা হয়েছে গাছ, তুলে ফেলা হয়েছে সিমেন্টের খুঁটি— সংগৃহীত
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে দেড় শতাধিক ফলজ, বনজ গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা এবং জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় মো. ইনছান আলীকে প্রধান আসামি ও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন মোছা. সামছুন নাহার। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামছুন নাহারের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে সোমবার সকালে মো. ইনছান আলীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে সামছুন নাহারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা প্রায় ১৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলেন। জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলে প্রায় ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে সামছুন নাহার আরও উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনি দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় হাজরা খাতুন বললেন, ‘সামছুন নাহারের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি আর রাতে গাছ কে কেটে ফেলছে সেটা দেখিনি।’
রাব্বি জানান, ‘জন্মের পর দেখতেছি সামছুন নাহারেরা এই জমি ভোগ করে।’
রাধা রানী বলেছেন, ‘হামরা হাজিরা খাটিছি অনেক কাজও করছি এই জমিত।’
ভুক্তভোগী সামছুন নাহার বললেন, ‘পৈতৃক সূত্রে প্রায় ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ৩০ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছি। গত ২ বছর আগে ৩০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে ইনছান আলীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। একাধিকবার থানায় এটা নিয়ে বসা হয়েছিল। তারা কাগজ দেখানোর কথা বলে বারবার সময় নিলেও কাগজ দেখাতে পারেনি। এর আগেও এই জমিকে কেন্দ্র করে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। সেই ঘটনায় তাদের নামে মামলা হয়েছিল, তারা এখন জামিনে আছে। আজকে তারাই আমার জমির গাছ কেটে ফেলেছে, সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইনছান আলী বলেছেন, ‘সামছুন নাহারের গাছ, বেড়া কিংবা তারকাটা কে নষ্ট করেছে, তা তারা জানেন না। বরং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়ার ভাষ্য, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





