সরাইল
একযুগেও সংস্কার হয়নি জাফর খালের লোহার সেতু

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মেঘনা পাড়ের প্রাচীন পানিশ্বর বাজারের ব্রিটিশ আমল থেকেই বন্দর হিসেবে খ্যাতি ছিল। কিন্তু নৌপথ ছাড়া উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে সেই খ্যাতি ম্লান হয়ে আসে।
এ অবস্থায় প্রায় এক যুগ আগে সরাইল উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পানিশ্বর বাজার সংলগ্ন জাফর খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেন। এতে সাড়া দিয়ে এলাকাবাসী সেতু নির্মাণে নেমে পড়েন।
স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয় কয়েকটি খুটির ওপর লোহার পাটাতন ও রেলিং দিয়ে সেতুটি। সময়ের সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হলেও এই সেতুটির কোনও উন্নয়ন হয়নি। হয়নি বড় পরিসরে কোনও সংস্কার কাজ।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহত্তম ব্যবসাকেন্দ্র পানিশ্বর বাজার সংলগ্ন লোহার চিকন সেতুটি সংস্কারের মাধ্যমে বাজারে মালমাল পরিবহন ও বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা।
শোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা স্বাস্থ্যসহকারী রাসেল, দেওবাড়িয়ার প্রবাসী সফিক, লায়ের হাটির বাসিন্দা উছমান চৌধুরী জানিয়েছেন, শাখাইতি, দেওবাড়িয়া, নাইলা, তারাখলা, নয়াহাটি, আকবরহাটি, লায়েরহাটি, শোলাবাড়ি, সিমনা, কট্রাইল্লা, ডাংগি, তাজপুর, দুর্গাপুর, বগুইড়সহ বিভিন্ন গ্রামের ৩/৪ হাজার লোক প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ও পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই জাফর খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। যুগ যুগ ধরে আশ্বাসই পেয়েছি, কিন্তু কেউ কথা রাখেননি। ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন দুই গ্রামের যাতায়াতের দুরবস্থা দেখে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিলে আমরা সেতুটি স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করি।
পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছাদু মিয়া বলেন, এই লোহার সেতুটির প্লেট পরিবর্তনের জন্য সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সে টাকা দিয়ে সেতুটির লোহার প্লেট পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া বড় কোনও সংস্কার কাজ করা হয়নি।
পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া বলেন, সম্প্রতি পানিশ্বর বাজার সংলগ্ন লোহার সেতুটি সীমিত পরিসরে মেরামত করা হয়েছে।
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ এমরান হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এলাকাবাসীর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা। অবশিষ্ট অর্থের মধ্যে উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিল থেকে ৪ লাখ এবং পানিশ্বর ইউনিয়নের এলজিএসপির বরাদ্দ থেকে ৬ লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, তৎকালীন খালটির দুই পারের লোকজনের যোগাযোগ স্থাপন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ সার্বিক বিবেচনায় সেতুটি খুব প্রয়োজন ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে সেতুটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকলে সংস্কার করা হবে।







