কেন্দুয়ায় করুণ পাঠদান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৬০টি পদও শূন্য। ফলে কোথাও সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে, কোথাও আবার কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে চালাতে হচ্ছে একাধিক শ্রেণির পাঠদান। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার গুণগত মান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। শিক্ষকসংকটে অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই চলছে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।
শুধু বিদ্যালয়গুলোতেই নয়, খোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসেও রয়েছে জনবলের ঘাটতি। সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এ ছাড়া একটি অফিস সহকারীর পদ এবং একমাত্র অফিস সহায়কের পদও শূন্য। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সংকটে উপজেলার সাতটি ক্লাস্টারের তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিস— দুই জায়গাতেই জনবলের এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের কাজ করতে হচ্ছে।
উপজেলার দুল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সজল কুমার সরকার। তার দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬১ জন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তিনি চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
তার ভাষ্য, ‘বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে।’ প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পাঠদানে পিছিয়ে পড়ছে বলেও তিনি মনে করেন। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের দাবিও জানিয়েছেন।
শুধু চলতি দায়িত্ব নয়, দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেও পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটার অভিজ্ঞতা রয়েছে শিক্ষকদের। সান্দিকোনা ইউনিয়নের টিপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুর্শেদ আলম জানালেন, প্রায় এক বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের। এ সময় ক্লাস রেখে অফিসের কার্যক্রমে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে ভারমুক্ত হলেও উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৬০টি পদ শূন্য থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকসংকটের এই পরিস্থিতিকে গুরুতর বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষক নেতারাও। কেন্দুয়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাট্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাষায়, ‘প্রধান ও সহকারী শিক্ষকসংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আরও সাতটি পদ খালি থাকায় অফিসের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।’
অবশ্য শূন্য পদ পূরণে প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। কেন্দুয়া উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেছেন, ‘শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।’ শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলো পূরণের জন্যও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একই কথা বলেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ ব মুস্তাকিম বিল্লাহ। ‘প্রধান ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এতদিন আইনি জটিলতার কারণে পদগুলো পূরণ করা যায়নি। এখন সেই জটিলতা নেই’— বললেন তিনি। তার আশা, শিগগিরই শূন্য পদ পূরণ হবে।




