ব্যারিস্টার ফুয়াদ
আ.লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে

বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ছবি: আগামীর সময়
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা সরকারের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার, শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং বরিশাল বিভাগের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার বিকালে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১-দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ফিরলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে দেশের মানুষকে ভয় দেখানো বা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ দাবি করেন, গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের বক্তব্য প্রচারে নানা বাধা ছিল। টক শোতে বিএনপি-জামায়াতের বক্তব্য ছিল না। কোনো গণমাধ্যম বক্তব্য প্রকাশ করায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের দিয়ে টক শো করিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা যাবে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।
তার দাবি, বরিশালেও আওয়ামী লীগের পরিচিত সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হচ্ছে। এসব বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন, দুই বছর পার হলেও এখনো শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হয়নি। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মীরাও কয়েক মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
বরিশাল বিভাগের উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরেন এবি পার্টির মহাসচিব। তিনি কুয়াকাটা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার মন্তব্য, ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।





