সাগরে ট্রলারডুবি : ৫ জেলের লাশ উদ্ধারের খবরে পরিবারে আহাজারি

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে নিখোঁজ পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়েছে বরগুনার পাথরঘাটায়। জীবিত ফেরত আসবেন প্রিয়জন- সেই আশায় থাকা পরিবারগুলোতে এখন চলছে আহাজারি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে গভীর সাগরে পাওয়া যায় মরদেহগুলো- এমন তথ্য ছড়িয়েছে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে। স্বজনরা বলছেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক বাদল মোল্লা তাদের একথা জানিয়েছেন। গতকাল নিখোঁজদের উদ্ধারে যাওয়া ট্রলারে আছেন তিনি।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন— পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)।
নিখোঁজ কাওসারের চাচা মো. হারুন বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, পাঁচজনকে পাওয়া গেছে। তাদের সবাই মারা গেছেন। মরদেহ নিয়ে সমুদ্র থেকে রওনা হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়।’
ট্রলারমালিক বাদল মোল্লার বরাতে স্থানীয় সুমন মোল্লা জানিয়েছে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর। তার দাবি, ‘বাদল মোল্লা আমাকে সকালে মোবাইলে কল দিয়ে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ নিয়ে সমুদ্র থেকে রওনা হয়েছেন।’
গতকাল সোমবার দুপুরে প্রবল ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ে ১৩ জেলে নিয়ে ডুবে যায় ‘এফবি বরকত’। প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন আটজন।
আরেকটি মাছ ধরার ট্রলার সেখানে পৌঁছালে উদ্ধার হন তারা। নিখোঁজদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দুটি ট্রলার গভীর সাগরে পাঠানো হয়।
জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী সকালে বলছিলেন, জেলেদের উদ্ধারে যাওয়া ট্রলার দুটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেছেন, ‘মরদেহ পাওয়া গেছে— এমন খবর বিভিন্নজনের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।’
একই বক্তব্য পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীমের। ‘যে স্থানে মরদেহ আনা হবে বলে জানানো হয়েছে, আমি নিজেও সেখানে গিয়েছিলাম। পুলিশের সদস্যরা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করতে পারিনি।’






