জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ছবি: আগামীর সময়
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকট বিরাজ করছে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৪১টি পদের বিপরীতে ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণির ২৬টি পদের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিকস) ও সার্জন পদসহ মোট চারটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া মেডিকেল অফিসার (ইউএইচসি) পদও খালি রয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির ৩১টি পদের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স (মিডওয়াইফারি) পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৯৪টি পদের বিপরীতে ৪২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সহকারী, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, ক্যাশিয়ার, পরিসংখ্যানবিদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), সহকারী সেবক ও মালীর পদ। এছাড়া সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ওয়ার্ড বয়, কুক/মশালচি, নৈশপ্রহরী, অফিস সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, অফিস সহায়ক, ঝাড়ুদার ও স্বাস্থ্য সহকারীর একাধিক পদও শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা, দাপ্তরিক কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা, রান্না, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কারিগরি সেবায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা হয়। এর ফলে সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাড়াশ পৌর সদরের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অনেক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।’
পূর্বপাড়া এলাকার মাসুম বিল্লাহ জানান, মালীর পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাগান ও খোলা জায়গাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা হচ্ছে না। ফলে বিশাল চত্বরের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
দেওড়া গ্রামের জান্নাতি খাতুন অভিযোগ করেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও) পদে জনবল সংকট থাকায় অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়ে রোগীরা সেবা পান না। বেশিরভাগ সময় বিভাগগুলো বন্ধ থাকে।
স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রহতম আলী, ফাতেমা খাতুন, রাকিবুল হাসান, সানজিদা বেগম ও রাব্বির হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, কিছু বিভাগে সেবা পাওয়া গেলেও জনবল সংকটের কারণে অনেক বিভাগে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণেও ঘাটতি রয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্সের পাশাপাশি সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’




