সিলেট নিয়ে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম সিলেট এলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও। যার বাড়ি এই সিলেটেই। শনিবার সকালে বিমান থেকে যখন নামলেন তখন সিলেটে ঝুম বৃষ্টি। অনেকটা বৃষ্টিভেজা অবস্থায় শুরু হয় কর্মসূচি। প্রথমেই হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত। এরপর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন এবং সুধী সমাবেশে যোগদান।
সুধী সমাবেশে সিলেটকে নিয়ে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, জলাবদ্ধতা ও বন্যা থেকে রক্ষা পাবেন সিলেটের মানুষ। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে। রেলপথের উন্নয়নে চালু করা হবে সিলেট-ঢাকা ডাবল রেললাইন। দ্রুতই সিলেটের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুসহ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিলেটের আইটি পার্ক সচল করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
দিনের শুরুতেই সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে যোগ দেন নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে।
সিলেটের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, সুরমা নদী ঘিরে নেওয়া মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে নগরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। বন্যার হাত থেকেও রেহাই পাবে নগরবাসী।
‘এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখছিলাম বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে। হয়তো আরও বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হবে। এ ছাড়া বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া সব নগরেই নিচে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। এটি ধীরে ধীরে নিয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে। এজন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছি।’
সিলেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। তিনি আশ্বস্ত করেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ এই অঞ্চলের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালু করা হবে, যা যাতায়াতকে করবে আরও দ্রুত ও সহজ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় আমি যখন সিলেট এসেছিলাম তখন বলেছি, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ বাইরোডে ঢাকা যেতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। তাই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম।
‘সরকার গঠনের পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যা ছিল। এজন্য কাজ আটকে ছিল। এই সমস্যাগুলো দূর করা হয়েছে। আশা করছি, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারব। কাজ শেষ হতে দেরি হবে। তবে শুরু হলে তো শেষও হবে’, স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।
কেবল সড়কপথ নয়, রেল যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ সম্পর্কেও জানাচ্ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ‘রাস্তা যত বড় হবে তত গাড়ি নামবে। তত ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। রাস্তা বড় করলে নষ্ট হবে ফসলি জমিও। এজন্য রেলের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা নিয়েছি ঢাকা-সিলেট রেল রেলপথেকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা।’
তিনি বললেন, সিলেটের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
এদিকে সিলেটের পরিত্যক্ত ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেট হাসপাতালকে (ওসমানী হাসপাতাল) ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন। ‘দরকার হলে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। চেষ্টা করছি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও।’
সিলেটে একটি আইটি পার্ক থাকলেও সচল নেই বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি। যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়। ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সুরমা নদীর তীর প্রকল্পের।
দিনব্যাপী সফরে সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খনন, বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে তার। আজ রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা প্রধানমন্ত্রীর।





