চট্টগ্রামের ক্রাইস্ট চার্চের শতবর্ষ উদযাপন

ক্রাইস্ট চার্চের শতবর্ষের আলোচনা সভা
নানা আয়োজনে চট্টগ্রামের জুবিলি রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ক্রাইস্ট চার্চের শতবর্ষ উদযাপিত। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশি-বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা, প্রার্থনা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা বিস্তারে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদানের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সম্প্রদায়টির সম্পত্তি দখল ও দখলের অপচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শতবর্ষ উদযাপনে বক্তব্য দেন চার্চ অব বাংলাদেশের মডারেটর ও ঢাকার বিশপ মোষ্ট রেভারেন্ড স্যামুয়েল সুনীল মানখিন, যুক্তরাজ্যের ইউএসপিজির এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক কর্মসূচি সমন্বয়কারী নাদিয়া আনাবেল সানচেজ জারামিলো, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আর্চডায়োসিসের মোষ্ট রেভারেন্ড সৌরভ ফলিয়াসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায় পরিচালিত দেড় হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবদান অব্যাহত রাখতে তারা সম্প্রদায়টির সম্পত্তি সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ইতিহাস অনুযায়ী, ক্রাইস্ট চার্চের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৮৩৯ সালে লালদীঘির পাড়ে। পরে ১৯২৫ সালে পুরোনো চার্চটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর রঙিন কাচের জানালা, মার্বেল পাথরের মেঝে, বেঞ্চ ও বেদি অক্ষত অবস্থায় স্থানান্তর করে ১৯২৬ সালে জুবিলি রোডের পাহাড়ের চূড়ায় বর্তমান ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। একই বছরের ১০ এপ্রিল পাম সানডেতে চার্চটি পবিত্র করা হয়। শতবর্ষে পদার্পণের মধ্য দিয়ে ভবনটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।



