শান্তিচুক্তির পর হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে প্রথম বাংলাদেশি জাহাজ

শান্তিচুক্তির পর হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে প্রথম বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে ফের শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল। পারস্য উপসাগরে আটকাপড়া কয়েকশ’ জাহাজের মধ্যে বুধবার সকাল থেকেই প্রথম দফায় চীন, জাপান, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তানের জাহাজ হরমুজের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আর প্রথম সারিতে থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ঠিকভাবে পাড়ি দিতে পারলে এটিই হবে এবারের সংঘাত থামার পর হরমুজ পাড়ি দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি জাহাজ।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এই জাহাজটি মূলত বিভিন্ন দেশের পণ্য ভাড়ায় পরিবহন করছিল। সর্বশেষ ১১ মার্চ ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে সৌদি আরবের রাস খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে, পৌঁছানোর শিডিউল ছিল আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে। এরপর সেখান থেকে যেত দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তখন হরমুজ পাড়ির পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে তা আর এগোয়নি। এরপর থেকেই পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছিল বাংলার জয়যাত্রা।
আজ সকালে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে। জাহাজে থাকা ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি এবং তারা নিরাপদে আছেন।
মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডাটাবেস ‘ভেসেল ফাইন্ডার’-এর তথ্য বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর প্রথম জাহাজ হিসেবে ফ্রান্সের কনটেইনার জাহাজ ‘এমভি ক্রাইবি’ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ প্রায় ৮০০ জাহাজের বিশাল বহর, যার প্রথম ২০ থেকে ৩০টি জাহাজের সারিতেই রয়েছে বাংলাদেশের ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের। দুপুর আড়াইটায় দিলেন নতুন তথ্য। জানান, ‘আমাদের প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় পারস্য উপসাগর থেকে রওনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ সেটি হরমুজ অতিক্রম করতে পারে।’
জাহাজটি হরমুজ পাড়ি দিতে ইরানের অনুমতির প্রয়োজন এখনো পড়েনি বলছেন মুজিবুর রহমান। তার ভাষ্য, ‘হরমুজ দিয়ে অন্য দেশের সব জাহাজের সঙ্গে আমাদের জাহাজও একসঙ্গে রওনা দিয়েছে। হরমুজ পাড়ির আগে আরও একবার আমরা ফাইনাল অনুমতি দেব বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেনকে। এরপর বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালী পাড়ি দেবে। তার আগেই আমরা বাংলাদেশে ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে জাহাজটি হরমুজ পাড়ির অনুমতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একইসঙ্গে আমাদের জাহাজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হচ্ছি কোনো ঝুঁকি আছে কিনা।’
শিপিং করপোরেশন বলছে, জাহাজে থাকা সব বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছেন। জাহাজটি চালাচ্ছিলেন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। যুদ্ধবিরতির এই ১৪ দিনের সুযোগে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি জাহাজ প্রণালী পার হওয়ার কথা রয়েছে।















