মৃত্যুর আগের স্ট্যাটাস ‘কী অসাধারণ একটা জীবন কাটিয়েছি’

ছবি: আগামীর সময়
‘ক্যাম্পাসে ১ বছর ৭ মাস। আড়াই বছর পর আমি এই পোস্টটি আবার শেয়ার করে নিজেকে বলব-‘কী অসাধারণ একটা জীবনই না এখানে কাটিয়েছি!’
ইনতিশিয়ার হাসনাত জিমেলের ফেসবুকের সবশেষ স্ট্যাটাস এটা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই ছাত্র এখন না ফেরার দেশে। যে সবুজ ক্যাম্পাসকে তিনি ভালোবেসে এই পোস্ট দিয়েছিলেন সেখানে তার আর পা পড়বে না কখনো, কোনোদিন।
মঙ্গলবার রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে জিমেলের অকাল মৃত্যু। চার বন্ধুসহ তিনি রাঙামাটি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সাঁতার কাটতে গিয়ে বিপত্তি ডেকে আনেন। তার বাবা মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের উপাধ্যক্ষ। মা শাহীন আকতার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়ায়।
ক্যান্টমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অপর উপাধ্যাক্ষ শ্যামপ্রসাদ মিত্র জানিয়েছেন, একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন বাবা বেলাল উদ্দিন। তাদের বাসা চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ডিওএইএসে। বুধবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জানাজা শেষে পরিবারের সবাই লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির চলে যান। সেখানেই দাফন হবে।
২৩ বছর বয়সী জিমেলের আকস্মিক মৃত্যুতে তার সহপাঠী, বন্ধু, স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু থেকে শোক জানানো হয়। ফেসবুকে অনেকে জিমেলের ছবি দিয়ে তাদের আবেগ অনুভূতি তুলে ধরেছেন।
কামরুল হাসান আকাশ সিনিয়র সহপাঠীকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এগুলা কি হচ্ছে ভাই ডিপার্টমেন্টে। কিছুদিন আগেই আমাদের ব্যাচের সাকিবকে হারালাম। আর আজ ইনতিশিয়ার হাসনাত জিমেল ভাইকে। কিছুদিন আগেই কথা হলো দেখা হলো ভাইয়ের সাথে। আর আজ …।’
জিমেল খেলাধুলা নিয়েও নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। খেলতেন বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিস। সেই স্মৃতিচারণও করছেন অনেকে।
তালহা জুবায়ের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জিমেল ভাইয়ের হাত ধরেই আমি বাস্কেটবল আর টেবিল টেনিস খেলা শুরু করেছিলাম। জিমেল ভাই আর আমাদের মাঝে নেই।’
জুবায়ের মুফিদ লিখেছেন, ‘স্কুলে থাকতে সবচেয়ে প্রিয় জুনিয়রগুলোর একজন ছিল জিমেল। সারাদিন টেবিল টেনিস খেলে দিন কাটিয়েছি এমনও ছিল। জিমেলকে আমি নিজের হাতে টেবিল টেনিস খেলা শিখিয়েছিলাম। এক সপ্তাহ আগেও আফমি প্লাজার সামনে দেখলাম। মানতেই পারলাম না সে নেই।’
জিমেলের শেষ পোস্ট এবং পিন করা পোস্ট নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র ছাত্র এ শুক্কুর। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বিভাগের ছোট ভাই ইনতিশিয়ার আল্লাহর জিম্মায়। ছোট ভাইটা হয়তো ভেবেছিলো আড়াই বছর পরে ফিরে এসে স্মৃতিগুলো দেখবে । কিন্তু জীবন সব সময় আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। কিছু মানুষ সেই নির্ধারিত দিনে পৌঁছাতে পারেন না। অন্যদিকে তার পিন করা পোস্টটা ছিলো এমন -জীবন হয়তো দীর্ঘ হওয়ার জন্য নয়; জীবন অনুভব করার জন্য। মানুষ কত বছর বাঁচল, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সে তার সময়টুকু কতটা আন্তরিকভাবে বেঁচেছে, কতটা ভালোবেসেছে, কতটা স্বপ্ন দেখেছে, কতটা স্মৃতি রেখে গেছে।’




