বিদেশি ব্যবস্থাপনায় এনসিটি সক্ষমতা কতটা বাড়বে জানতে চায় স্কপ

সংবাদ সম্মেলনে স্কপ নেতারা। ছবি: আগামীর সময়
বিদেশি ব্যবস্থাপনায় গেলে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) সক্ষমতা কতটা বাড়বে তার সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা সরকারের কাছে চেয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকালে এনসিটি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্কপ নেতারা এই দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে স্কপ নেতারা জানালেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিরোধী নই। রাষ্ট্রের অর্থে নির্মিত ও লাভজনক গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েই আমাদের প্রশ্ন। এনসিটির অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণে বাংলাদেশের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। জমির মূল্যসহ সম্পদের মোট মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তাহলে প্রশ্ন আসে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাইনিং মানি এবং প্রথম ১০ বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদের পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত। চুক্তির আর্থিক শর্ত, রাজস্ব বণ্টন, বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি ও বিএনপি নেতা এস কে তোতন বললেন, আগে তেল, গ্যাসের দাম বাড়ালে সরকার জনগনের মতামত নিতো। আমাদের অনেক যৌক্তিক আন্দোলনেও লন্ডন থেকে তিনি (তারেক রহমান) সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-সম্পদের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন কিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না। চুক্তির শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়ার দাবি তার।
স্কপ নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন জানালেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার খালাস ও পণ্য সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো, কাস্টমসের ছাড়পত্র, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং আমদানিকারকের কাগজপত্র প্রস্তুতসহ বিভিন্ন ধাপের সময় বিবেচনায় না নিয়ে শুধু টার্মিনালের কর্মদক্ষতাকে দায়ী করা ঠিক নয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলে কতটা সময় কমবে এবং কী পরিমাণ সক্ষমতা বাড়বে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান স্কপ নেতারা।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান বললেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটিতে প্রায় ১৩ লাখ ৫৮ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। অন্যদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের জন্য বছরে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়বে-এমন দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।
এনসিটির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ও জিসিটিও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোর পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সংকুচিত হবে। একই সঙ্গে কাস্টমসের তদারকি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি ও শ্রম অধিকার সুরক্ষার কী হবে- জানতে চান নেতারা।



