রূপচাঁদার ওজন সোয়া ২ কেজি দাম ৫০০০

ছবি: আগামীর সময়
রূপচাঁদা। সাগরে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা এই সাদা-রূপালি রঙের রূপচাঁদা অভিজাত শ্রেণির মাছ হিসেবে পরিচিত। রূপচাঁদার অনেক জাত রয়েছে। রূপচাঁদা, কালো রূপচাঁদা,টেকচাঁদা, চাইনিজ রূপচাঁদা। বিয়ে কিংবা উৎসবে রূপচাঁদা ফ্রাই পরিবেশন আভিজাত্যের প্রকাশ পায়।
এর মধ্যে সবচেয়ে অভিজাত হিসেবে পরিচিত চাইনিজ রূপচাঁদা। এক একটির ওজন এক থেকে তিন কেজি পর্যন্ত। প্রতিকেজির দাম ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। সোয়া দুই কেজির একটি তাজা রূপচাঁদা বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার টাকায়। দারুণ স্বাদের এই মাছ ইলিশকেও হার মানায়। বড় সাইজের রূপচাঁদা মাছ খেয়েছেন এমন একজনই জানালেন এই মাছে স্বাদের কাহিনি।
কাজীর দেউড়ি বাজারের দোকানি জাকির হোসেন জানালেন, ‘বড় চাইনিজ রূপচাঁদা খুবই কম ধরা পড়ে। তাজা ৭-৮টি চাইনিজ রূপচাঁদা পড়েছে জালে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ওজন সোয়া দুই কেজি। সেগুলো সবই আমরা এনেছি। মণ পড়েছে ৮০ হাজার টাকা, কেজি পড়ে ২০০০।’
বড় সাইজের এই রূপচাঁদাটি কিনে নিয়েছেন ইউরোপের দেশ পোলান্ডের ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের মুরাদপুরের অধিবাসী মোহাম্মদ ইমরান সিআইপি। তিনি জানালেন,‘এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় রান্না করে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছি মাছটি।’
এখন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলমান। তারপরও বাজারে কিছু তাজা মাছ মিলছে। সমুদ্রের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় ছোট কাঠের নৌকায় ধরা পড়ে এসব মাছ। এর মধ্যে রয়েছে লইট্টা, রূপচাঁদা,পোয়া, চিংড়ি ও ছোট আকারের ইলিশ। পরিমাণে কম হওয়ায় এসব মাছের দামও খুব চড়া। কিন্তু স্বাদ অসাধারণ।
আজ বৃহস্পতিবার রাত পেরোলেই মাছধরার ওপর সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ। এর মধ্যে জেলেরা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়বে বলে জানিয়েছেন মাছ বিক্রেতারা।
বর্তমানে বাজারে সামুদ্রিক তাজা মাছের (স্থানীয় দোকানিদের ভাষায় কাঁচা মাছ) সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত। অধিকাংশ দোকানেই আগের মজুদ করা মাছ বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারে রুপচাঁদা আকারভেদে ১১০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই জাতের কাঁচা মাছের দাম কেজিতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি। এছাড়া বড় আকারের বাগদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে। ফ্রিজের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০০ হাজার থেকে ২২০০ টাকায়। কিন্তু নতুন তাজা ইলিশের কেজি তিন হাজার টাকার বেশি।
তুলনামূলক সস্তা মাছের মধ্যে লইট্টা ৩৫০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা জানান, মাছধরার বড় জাহাজ সমুদ্রে না গেলেও ছোট কাঠের বোটগুলো মাছ ধরছে। এই বোটগুলো সাধারণত ৩-৪ দিনের মধ্যেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরে আসে, যেখানে বড় জাহাজের ক্ষেত্রে ১৫ দিন সময় লাগে।
কাজীর দেউড়ি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হালিম জানান, শুক্রবার থেকে জেলেরা পুরোদমে সাগরে নামবেন। মাছের সরবরাহ বাড়লে খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।






