প্রতিমন্ত্রীর চাপে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ: সরোয়ার তুষার

ছবি: আগামীর সময়
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের চাপে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।
আজ রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে পাহাড়ে জুলাই : সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি একথা বললেন।
‘এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগ- তিন পার্বত্য জেলা’ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার তুষার পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আপনাদের কমিউনিটির একজন মাত্র ব্যক্তি দীপেন দেওয়ান সাহেব। তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছিল। আমরা দেখলাম তাদের দলীয় অন্তর্কোন্দলে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক যে প্রতিমন্ত্রী আছেন এই চট্টগ্রামের মানুষ মীর হেলাল সাহেব, তার চাপে ও তার প্রভাবে দীপেন দেওয়ান সাহেবকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। আমি মনে করি এটা আপনাদের সাথে একটা স্পষ্ট প্রতারণা।’
‘দীপেন দেওয়ান বাবাও কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তার সন্তানকে দিয়ে আপনি পার্বত্যবাসীর ভোটটা নিলেন। ভোটের পরে আপনার তাকে আর দরকার নেই। আপনারা আশা করি এই প্রতারণাটা ভুলবেন না।’
বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে দুর্বল বাঙালি জাতীয়বাদের চর্চা করে বলেও মন্তব্য করলেন সরোয়ার তুষার।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বললেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান দেশকে শুরু থেকেই বিভাজিত করে রেখেছিল। সাম্প্রদায়িকতার নামে জাতিতে জাতিতে বিভাজন করেছে। ধর্মে ধর্মে বিভাজন করেছে। সমাজ বিভাজিত হয়েছিল স্বাধীনতার পর থেকে। পাহাড়ের জনগোষ্ঠী তাদের জাতি পরিচয়ের কারণে কখনো কখনো নির্যাতিত হয়। পাহাড়ে যারা বাঙালি আছেন তারাও নানা বঞ্চনার শিকার।’
‘পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে আমরা বিভিন্নসময় বিভিন্ন বিভাজন বা দ্বন্দ্বের কথা শুনি। বাংলাদেশের নিজস্ব জনগণ নানা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যদি বিভাজন থাকে এর ফায়দাটা নেয় কিন্তু অন্য দেশ। আমরা মনে করি সব বিভাজন দূর করে আমরা একটা ঐক্যের জায়গায় আসতে পারি বাংলাদেশ প্রশ্নে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে।’ – যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য রাখেন।






