চট্টগ্রামে চালু হলো স্বস্তির ‘মহিলা বাস’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের জন্য চট্টগ্রাম নগরীতে চালু হয়েছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস।’ প্রাথমিকভাবে দুটি বাস কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। বাস দুটির চালক ও সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা। কালুরঘাট ও পতেঙ্গার মধ্যবর্তী এই রুটে মোট ১৩টি নির্ধারিত স্টপেজ রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। চালু হওয়া দ্বিতল বাসে ৭৫টি এবং অন্যটিতে ৪৫টি আসন রয়েছে।
কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার পথের ভাড়া ৬৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। বাসগুলো যেসব স্থানে থামবে সেগুলো হলো কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফ্রি-পোর্ট ও কাটগড়। পতেঙ্গা থেকে ফিরতি পথেও এসব জায়গায় বাসগুলো থামবে।
উদ্বোধনী বাসের যাত্রী শাহিন আক্তার বলেন, ‘সাধারণ বাসে পুরুষ যাত্রীদের ভিড়ে অনেক সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয়। এতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হই আমরা। শুধু নারীদের জন্য বাস চালু হওয়ায় নিরাপদে চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দুটি বাস দিয়ে চাহিদা পূরণ হবে না, বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন। এ বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী। আমরা আশা করব, নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।’
তিনি জানান, সার্ভিসটি চালু রাখার দায়িত্ব এখন নগরবাসীর। বিশেষ করে যেসব নারী কালুরঘাট থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তাদের মধ্যে এ সেবা সম্পর্কে প্রচার বাড়াতে হবে। যাত্রী চাহিদা তৈরি হলে ভবিষ্যতে রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
নারী চালক মিতু বেগম জানান, গাজীপুরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বাস চালানোর জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। নারী বাস সার্ভিসে চালক হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে তার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। যাত্রী চাহিদা ও সার্ভিসের কার্যকারিতা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে বাস ও রুট বাড়ানো হতে পারে। নতুন ইলেকট্রিক বাস যুক্ত হলে নারীদের জন্য আরও রুট চালুর সুযোগ রয়েছে।
দূরত্ব অনুযায়ী বাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। বাসে থাকা ডিভাইসের মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ ও টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও বিআরটিসি চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







