গ্যাসের লাইনে সকাল থেকে দুপুর, আয় বন্ধ চালকদের

গ্যাস সংকটে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমেছে। সিএনজি পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লম্বা লাইন গ্যাসের জন্য। চট্টগ্রাম স্টেশন রোড এলাকা থেকে তোলা ছবি। রনি দে,চট্টগ্রাম
সকাল ৬টা। গাড়ি নিয়ে ওয়াসা মোড়ে এসে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়েছেন আবদুল খালেক। ভেবেছিলেন, ভোরে এলে দ্রুত গ্যাস নিয়ে রাস্তায় নামতে পারবেন। কিন্তু সকাল ৯টার আগেই বন্ধ হয়ে যায় গ্যাস সরবরাহ। এরপর কেটে যায় আরও কয়েক ঘণ্টা। কখন আবার গ্যাস পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। গ্যাসের জন্য এমন দীর্ঘ অপেক্ষা চালকদের এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগ। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষা সব মিলিয়ে বাড়ছে চালকদের ভোগান্তি।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাইগার পাস, ওয়াসা মোড়, খুলশী রেলগেট ও আকবর শাহসহ বেশ কয়েকটি এলাকার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের আশায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজি অটোরিকশা ও বিভিন্ন গ্যাসচালিত যানবাহন। কেউ গাড়ির ভেতরে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে কেউ কেউ বসে পড়েছেন সড়কের পাশে।
কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত। কোথাও দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দিনের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করেই কেটে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে দৈনিক ট্রিপ ও আয়।
সবুর উদ্দিন নামে এক চালক বললেন, ‘গাড়ি চালালে টাকা পাই, না চালালে পাই না। গাড়ি চালাতে না পারলে কিস্তির টাকা দিতে পারব না। গ্যাসের জন্য যদি সারাদিন বসে থাকতে হয়, তাহলে সংসার চালাব কীভাবে?’
খুলশী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ বললেন, ‘আগে একদিনে যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ পেতাম, এখন তিন দিনেও সেই পরিমাণ পাই না। ফলে চাহিদামতো গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও কিছু করার নেই।’
গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপরও। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে চালকদের কেউ কেউ বলছেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন তাদের ট্রিপের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় আয়ও কম হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া না নিলে তাদের লোকসান পোষানো কঠিন হয়ে পড়ে।
চালকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি কোন ফিলিং স্টেশনে কখন গ্যাস পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়া হলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। এতে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরে সময় ও জ্বালানি অপচয়ও কমবে।
গ্যাস সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা শুধু তাদের আয়-রোজগারেই প্রভাব ফেলছে না, নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।







