‘ওয়ারেন্ট-শুনানি শেষ হয়ে যায় তবুও পৌঁছাতে পারেন না বিচারপ্রার্থীরা’

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কোর্ট হিল বা কাচারি পাহাড়ের রাস্তা— আগামীর সময়
কোতোয়ালী থানার মোড় কিংবা সিডিএ বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে লালদীঘির দিকে আসতে হাতের বাঁ পাশেই পাহাড়ি সরু রাস্তা। মূল রাস্তা থেকে উঠে হাতের বামে সারি সারি শুঁটকির দোকান। মাছ ধরার জাল পাবেন। শাকসবজি তরকারির দোকান। ফলমূল, মধূ, বাদাম, জুতা, ঘড়ি, চশমা, পোকা মারার ওষুধ, গামচা-লুঙ্গিসহ অসংখ্য দোকান। আবার রাস্তার ওপরেই পার্কিং করা অসংখ্য মোটরসাইকেল। এ রকম হিজি-বিজি বর্ণনা শোনার পর বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না যে, কি পরিমাণ জঞ্জাল গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কোর্ট হিল বা কাচারি পাহাড়ে আজ বৃহস্পতিবার চরম অব্যবস্থাপনার এই চিত্র দেখা গেছে। ছোট সরু রাস্তা পেরিয়ে ৪০০ গজ উপরের আদালতপাড়া ও জেলা প্রশাসন কার্যালয় যেতে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। চরম বিশৃঙ্খলার কারণে সাধারণ মানুষ, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী সকলেই ক্ষুব্ধ।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন অসহ্য ভিড়। পাহাড়ের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাজিম উদ্দিন জানালেন, এখানে কোনো ফুটপাত নেই, দোকানপাট, বাজার বসে গেছে। আমরা আধা ঘণ্টার কাজে আসলে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সবসময় জ্যাম লেগেই থাকে, দেখার লোক নেই।
অরূপ সেন জানান, আগ্রাবাদ থেকে এখানে আসতে ১৫-২০ মিনিট সময় লাগলেও পাহাড়ের নিচ থেকে উপরে উঠতেই তার চেয়ে বেশি (আধা ঘণ্টা) সময় লেগে যায়। এখানে কোনো নিয়ম নেই, যে যার যার মতো চলছে।
মানবাধিকারকর্মী ও অ্যাডভোকেট এ. এম. জিয়া হাবিব আহসান কোর্ট হিলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, ‘এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদালত এবং একটি হেরিটেজ ভবন। যা ব্রিটিশ আমলে কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের আদলে নির্মিত। কাচারি পাহাড় হিসেবে পরিচিত। এটি এখন জঞ্জালের পাহাড়। আদালতে আসার রাস্তা এমনিতেই সরু। এতে অনেক সময় মামলার ওয়ারেন্ট হয়ে যায় বা শুনানি শেষ হয়ে যায় তাও বিচারপ্রার্থীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারেন না।’
তিনি জানান, বর্তমানে এই পাহাড়ের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। বিচারক ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, এমনকি আইনজীবী ও আদালত কক্ষে ভিক্ষুক ও অপরাধীরা অনায়াসেই ঢুকে পড়ছে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এ রকম সরু রাস্তায় মানুষ ও যান চলাচল সহজ করতে শীঘ্রই অ্যাকশন শুরু হবে।’





