৫৯ বছর পর চট্টগ্রামে নতুন ২ সরকারি স্কুল
- পতেঙ্গায় ঘুচছে শিক্ষা বঞ্চনা
- পাঠদান শুরু ২০২৭ সালে
- নিয়োগ হয়নি জনবল

নগরীর এক প্রান্তে অবস্থিত হলেও চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পতেঙ্গা। এখানে রয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কর্ণফুলী টানেল, ইস্টার্ন রিফাইনারি (তেল শোধনাগার), সমুদ্রসৈকত ও ইপিজেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা। অথচ এতদিন এই এলাকায় ছিল না কোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে পতেঙ্গায় চালু হচ্ছে নতুন দুটি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আধুনিক সুবিধার ১০ তলাবিশিষ্ট এ দুই প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করতে চলছে প্রস্তুতি।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৬৭ সালের পর চট্টগ্রাম নগরীতে সরাসরি সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। এতে কাটছে ছয় দশকের খরা। নতুন প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— উত্তর পতেঙ্গার বিজয়নগর এলাকায় ‘মাস্টারদা সূর্যসেন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এবং পূর্ব পতেঙ্গার স্টিল মিল এলাকায় ‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।’
সর্বশেষ জনশুমারি (২০২২) অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ (উত্তর পতেঙ্গা) ও ৪১ নম্বর (দক্ষিণ পতেঙ্গা) ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯ জন। তবে স্থানীয়দের মতে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ, চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এবং পতেঙ্গাকেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ এলাকায় বসবাস করেন।
জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দুই ওয়ার্ডে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৪১ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী স্কুলগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। দুই ওয়ার্ড মিলিয়ে ১৭টির মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ছয়টি বেসরকারি ও সিটি করপোরেশন পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল না। নতুন দুটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার বিশাল সুযোগ তৈরি হলো।
প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘৯টি সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন প্রকল্পের’ আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। মাস্টারদা সূর্যসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর শাহ আমানত স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান করা যাবে। ভবনগুলোতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, আইসিটি ল্যাব, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি, মাল্টিপারপাস হল, মিড-ডে মিল কক্ষসহ আনুষঙ্গিক সব সুবিধা রয়েছে।
পদায়ন করা হয়েছে দুজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল আজম বলেছেন, ‘চলতি মাসের শেষের দিকে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। এখন লিফটের কাজ চলছে। শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বলেছে, খুব শিগগির শিক্ষক পদায়ন করা হবে।’
অন্যদিকে মাস্টারদা সূর্যসেন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘এরই মধ্যে আসবাব বিভিন্ন জিনিসপত্র চলে এসেছে। কিন্তু জনবল না থাকায় এসব গ্রহণ ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।’
ভবন হস্তান্তরের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) চট্টগ্রাম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তানভীর ইসলাম বলেছেন, দুই প্রতিষ্ঠানেরই মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ। এখন ভেতরের ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বাকি। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করে ভবন বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
পতেঙ্গা, ইপিজেড এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প ও আবাসিক এলাকার সম্প্রসারণের কারণে ওই এলাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। বিজয়নগর এলাকার অভিভাবক আলেয়া বেগম বলেছেন, ‘এলাকায় ভালো সরকারি স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়ে মেয়েকে প্রতিদিন দূরে নিয়ে যেতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিও পোহাতে হয়। নতুন স্কুল চালু হলে আশপাশের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আজীজ বললেন, শুরুতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে এবং প্রতিটি শ্রেণিতে একটি করে শাখা থাকবে। শিক্ষক নিয়োগের পর শাখা বাড়ানো হবে।



