বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে ঝটিকা মিছিল ও সভা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এসব কর্মসূচির বক্তব্য ও স্লোগানের ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এসব কর্মসূচিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ফটিকছড়িতে তিনজন, হাটহাজারীতে দুইজন ও সন্দ্বীপে একজনকে আটক করেছে। ফটিকছড়িতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
তারা ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস উল্লেখ করে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নে একটি মিছিল বের করেছিলেন। শুক্রবার রাতের এই মিছিলে বেশকিছু যুবক অংশ নেন। পরে তিন যুবককে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশ।
ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানান, মিছিল থেকে তিনজনকে স্থানীয়দের সহয়াতায় আটক করা হয়। একজনকে পূর্বের একটি মামলায় ও অপর দুইজনকে মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে একটি বদ্ধ ঘরে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন ও সাধারণ সম্পাদক সামি উদ দৌলা সীমান্তকে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে ফুল দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একই উপজেলায় শুক্রবার দিবাগত রাতে কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া কিশোর একত্র হয়ে স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ এক কিশোরকে আটক করে।
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ডের সুপ্তধারা ঝরনা এলাকা থেকেও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একদল যুবককে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ১৫ আগস্টের বলে দাবি করা হলেও এর স্থান ও ধারণের সময় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সহসভাপতি তালুকদার পারভেজ আনসারীকে ১৫ আগস্ট শোকদিবস উপলক্ষে একটি সভায় বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। হাটহাজারীতে এই সভা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই উপজেলার এগারো মাইল এলাকায় শুক্রবার সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি বড় মিছিল বের করেন। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান। এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ ঘটনায় দুইজনকে আটকের কথা বলা হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের নাম জানায়নি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন কর্মসূচিকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল।







