'সুবিধা নেবেন, অঙ্গরাজ্য হবেন না, তা তো হবে না!’ কানাডাকে ট্রাম্পের খোঁচা!

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ শেষে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ফাইল ছবি / রয়টার্স
কানাডাকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা নিতে চায়, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা চায়, কিন্তু অঙ্গরাজ্য হতে চায় না।” একই পোস্টে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডার দীর্ঘদিনের শুল্কনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কানাডা বহু বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে। এরপরই তাঁর মন্তব্য, “আর নয়!”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর। কয়েক দিনের আলোচনা শেষে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটনের নতুন শর্তগুলো কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ও অন্যায্য ছিল।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে। নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে বিভিন্ন শিল্প ও ভোক্তা পণ্য। এতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়েছে।
জবাবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানিয়েছেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকস, কৃষি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যে নতুন শুল্ক বসানো হবে।
কানাডার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে নিজেদের বাণিজ্যনীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না অটোয়া।
অন্যদিকে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। তাঁর সর্বশেষ মন্তব্যে সেই রাজনৈতিক বার্তাই আবার সামনে এসেছে। কানাডার রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপসের ইঙ্গিত দেয়নি।
বাণিজ্য বিরোধ এখন শুধু শুল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়তে পারে দুই দেশের কৃষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপর। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি এবং কানাডার পাল্টা শুল্কের ঘোষণা উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের সম্পর্ককে আরও কঠিন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বাণিজ্য আলোচনায় দ্রুত সমঝোতা না হলে এই শুল্কযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



