‘অঙ্গরাজ্যের সুবিধা নিতে চায় কানাডা’, নতুন শুল্কারোপের পর ট্রাম্প

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ শেষে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ফাইল ছবি / রয়টার্স
কানাডা ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা’ নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বিভিন্ন পণ্যে নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে ট্রাম্প আরও বলেছেন, কানাডার কৃষকেরা বছরের পর বছর ‘বিপুল পরিমাণ শুল্ক’ ছাড় পেয়েছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নতুন শুল্ককে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষায়, এর লক্ষ্য ‘কানাডার ক্ষতি করা এবং জাতিকে বিভক্ত করা’।
কার্নি জানিয়েছেন, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডাও ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে ‘ডলার-ফর-ডলার’ শুল্ক আরোপ করবে। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক পণ্যে এসব শুল্ক বসবে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এখন বাণিজ্য ‘যুদ্ধে’ জড়িয়েছে।
শনিবার কার্নি বলেছেন, ‘তারা বেশি চেয়েছে এবং কম দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনো কিছু দিয়ে আক্রান্ত হলে সেটাই যুদ্ধ। আমরাও আক্রান্ত হয়েছি।’
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার কথা বারবার বলে আসছেন। তার এসব মন্তব্যে কানাডার নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বড় ধাক্কা খেয়েছে। এখন এই বিরোধ কীভাবে মিটবে, তারও স্পষ্ট কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।
কার্নি বলেছেন, ‘তারা যা দিয়েছে, আমরা তা মেনে নিতে পারি না। আর তারা যা চেয়েছে, আমরা তা দেব না।’
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, কানাডীয়রা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে ‘বোকামি’ করেছে। তারা মনে করছে, তারা ‘আসলে জিততে পারবে’।
সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশই চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত বদলানোর অভিযোগ তোলার পর আলোচনা ভেঙে যায়।
নতুন ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কানাডার বিভিন্ন পণ্যে কার্যকর হবে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগে থেকেই মার্কিন শুল্ক রয়েছে।
নতুন শুল্কের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। এতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়বে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জাম।
কার্নি বলেছেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও’ কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এসব ব্যবস্থার বিস্তারিত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানানো হবে।
কানাডার প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টিসহ অন্যান্য ফেডারেল দলের নেতারা কার্নিকে সমর্থন জানিয়েছেন। কয়েকটি প্রদেশের নেতারাও তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বিদেশি পণ্যের ওপর আরোপ করা করকে শুল্ক বলা হয়। ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার দাবি, শুল্ক মার্কিন উৎপাদন বাড়াবে এবং দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
তবে সমালোচকেরা বলেছেন, শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত ও অস্থিতিশীল হয়েছে।
শুক্রবার রাতে চুক্তি হবে না বলে জানানোর পর শনিবার কানাডীয়দের উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন কার্নি। তিনি বলেছেন, মার্কিন পক্ষ শেষ মুহূর্তে ‘অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক’ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল।
অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা বলেছেন, কানাডা আগে সম্মত হওয়া শর্ত নিয়ে ‘নতুন দাবি’ তুলেছে এবং কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
শনিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জামিসন গ্রিয়ার ফক্স নিউজকে বলেছেন, আলোচনা আবার শুরুর কোনো পরিকল্পনা নেই।
সূত্র : বিবিসি







