ইরানে শাসনব্যবস্থা বহাল
নির্বাসিত শাহ পুত্রের কণ্ঠে বিষাদ

রেজা পাহলভি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে শান্তি পুনর্বহাল হওয়ার আশার আলো দেখছিল গোটা বিশ্ব। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানে হয়েছে বিজয় মিছিলও।
কিন্তু ইরানের সর্বশেষ শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির কণ্ঠে পরিস্থিতিকে ঘিরে এখনও বাজছে বিষাদের সুর।
পাহলভির মতে, ইরানে এখনও ফেরেনি গণতন্ত্র। তথাকথিত শাসনব্যবস্থা অপরিবর্তিত এখনও। ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেছেন তিনি।
ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহ-পুত্রের মতে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও ইরানিদের তাদের শাসকদের হাত থেকে নিজেদের মুক্ত করা প্রয়োজন।
ফরাসি এক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় পাহলভি জানান, কোন শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে? একই মানুষগুলোই এখনও ক্ষমতায় উপবিষ্ট। তারা এখন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে হয়তো, এটুকুই।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পাহলভি মনে করেন, ইরানের ক্ষমতাশীন দল এখন আহত এক জন্তুর মতোই কাতরাচ্ছে।
‘যে প্রাণীকে শেষ হয়ে যেতেই হবে। ঠিক তেমনভাবেই অবসান ঘটাতে হবে ইরানের এই চলমান শাসনব্যবস্থারও’, যোগ করেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাহলভি ইরানের ক্ষমতায় বসার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন একাধিকবার।
বিভিন্ন রাজনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানকে আবারও মহান করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু বর্তমান শাসনব্যবস্থা বহাল থাকায় পাহলভীর ইরানে ফেরার স্বপ্ন রইল অধরাই।
রেজা পাহলভির বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, যিনি ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হন।
রেজা পাহলভি শুরু থেকেই কট্টর বিরোধিতা করে এসেছেন ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকারের।
বিভিন্ন সময়ে হওয়া ইরানের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দেশের বাইরে থেকে পরিচালনা ও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।




