বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিবেদন
৭ দিনেও একমত হতে পারেনি আইপিসিসির দেশগুলো

কথা ছিল, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)। কিন্তু পুরো এক সপ্তাহ আলোচনার পরও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো এবারের আলোচনা। ফলে আইপিসিসির পরবর্তী প্রতিবেদন কবে প্রকাশ করা হবে, তা হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। যার সঙ্গে পিছিয়ে গেল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোকে কেমন পদক্ষেপ নিতে হবে, তার সময়ও। সাধারণত আইপিসিসির প্রতিবেদন প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর পর প্রকাশিত হয়। সবশেষ ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সংস্থাটির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন।
আইপিসিসির মূল উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বের দেশগুলোকে সবশেষ জলবায়ুবিজ্ঞান সম্পর্কে জানানো। সামনের দিনগুলোয় বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কী ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া। বিশ্বের মোট ১৯৫টি দেশ এই সংস্থার সদস্য।
প্যানেলের সদস্যরাষ্ট্রগুলো যে দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনা শেষে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে, সে তথ্য জানালেন ফ্রান্সের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি বেনোয়া ফারাকো। তিনি বলেছেন, ইউরোপের অনেক দেশ ২০২৮ সালে আইপিসিসির পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে থাকলেও ‘কয়েকটি দেশ’ তা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে।
লিংকইনে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এক সপ্তাহের কঠিন আলোচনার পর পাঁচটি মহাদেশের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি বিস্তৃত জোট বিজ্ঞানের প্রতি সমর্থন এবং বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত সময়সীমা বজায় রাখার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল। প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর করার চেষ্টা করা কয়েকটি দেশের চাপ তারা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।’
এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যবান সময় নষ্ট করার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি।
জলবায়ুবিজ্ঞানের বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে পরিচিত আইপিসিসির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি ২০২৮ সালে প্রকাশের পক্ষে ছিল অনেক দেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে এ দেশগুলো। তবে সৌদি আরব, ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ বলেছে, আইপিসিসির সপ্তম মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৯ সালে প্রকাশ করা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর ফলাফল পর্যালোচনা ও নিজেদের পরিকল্পনায় তা কাজে লাগানোর জন্য আরও সময় পাবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ুবিষয়ক দূত টিনা স্টেগ বলেছেন, ‘কয়েকটি দেশ বারবার আইপিসিসির প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব ঘটাচ্ছে— এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অগ্রগতি আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বললেন, ‘সময় নষ্ট করার কোনো অবকাশ না থাকলেও এটি সময়ক্ষেপণের লজ্জাজনক চেষ্টা।’
জলবায়ু অ্যাকশন নেটওয়ার্কের শ্রীশান ভেঙ্কটেশ হতাশা প্রকাশ করে যত দ্রুত সম্ভব আইপিসিসির আলোচনা ফের আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।



