পেহেলগাম হামলার এক বছর
ভারতের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা নাটক’ সাজানোর অভিযোগ পাকিস্তানের

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। ছবি: সংগৃহীত
পেহেলগাম হামলার এক বছর আজ বুধবার। দিনটি স্মরণ করে ভারতের কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তান। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ দিতে ব্যর্থ নয়াদিল্লি— এমনটাই দাবি ইসলামাবাদের।
বিশেষ টেলিভিশন বিবৃতিতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা সাজানো ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান এড়িয়ে গেছে ভারত।
বিবৃতিতে তারার দাবি করেন, পেহেলগাম ঘটনাটি ভারতের ‘অযৌক্তিক চিন্তা, মিথ্যা অহংকার এবং লোভী’ মানসিকতার প্রতিফলন। এক বছর পার হলেও ভারত এ বিষয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। ভারত ক্রমাগত তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চায়। আবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধগুলো অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে চালিয়ে দিতে চায়। সন্ত্রাসবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হলেও তারা একে বাইরে বাস্তবায়ন করে। জম্মু-কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিক বিরোধ হওয়া সত্ত্বেও ভারত একে অভ্যন্তরীণ বলে দাবি করে।
‘পেহেলগাম নিয়ে ভারতের অবস্থান এখন স্পষ্ট। তাদের এই আচরণ অতীতের সাজানো নাটকের মতোই। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন এ ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ভারত তখন তা এড়িয়ে গেছে, সাড়া দেয়নি। পাকিস্তানের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। কিন্তু ভারতের তদন্তে অনীহা সাজানো নাটকের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে’, যোগ করেন তারার।
গত বছরের মে মাসে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এই দুই প্রতিবেশী। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে হামলা করে দিল্লি। বিনা উসকানিতে আক্রমণের জেরে এ যুদ্ধের সূত্রপাত।
পেহেলগামে হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি দিল্লি। আর এই হামলার অভিযোগ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে পাকিস্তান। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে দেশটি।
তবে ভারতের হামলায় পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন বেসামরিক ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। বিপরীতের ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি করে পাকিস্তান। এর মধ্যে তিনটি রাফাল ছিল। এ ছাড়া কয়েক ডজন ড্রোন এবং একটি এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবিও করে তারা। গত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে যায়।
যুদ্ধের পরিবেশ ও মনগড়া খবর প্রচারের জন্য ভারতীয় মিডিয়াকে দায়ী করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া হিন্দুত্ববাদী আদর্শের কারণে ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং মুসলমানদের ওপর সহিংসতার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি।
পাকিস্তানের কাছে ভারতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে জোর দাবি করেন তারার। তার মতে, পাকিস্তানে অস্থিরতা বাড়াতে বিএলএ এবং টিটিপির মতো গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে দিল্লি।

