আর্টেমিস-২ মিশনে টয়লেট নিয়ে বিপাকে নভোচারীরা

সংগৃহীত ছবি
নাসা এবার মানুষকে ইতিহাসের সবচেয়ে দূর মহাকাশে পাঠিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশাল একটি অর্জন। তবে এত উন্নত প্রযুক্তির মাঝেও একটি বিষয় এখনো পুরোপুরি নিখুঁত হয়নি—ওরায়ন মহাকাশযানের টয়লেট।
বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকেই আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী এই টয়লেট ব্যবস্থায় প্রায়ই সমস্যায় পড়ছেন।
নাসা জানিয়েছে, শনিবার একসময় টয়লেট থেকে বর্জ্য বাইরে ফেলা যাচ্ছিল না, সম্ভবত ভেন্ট লাইনে বরফ জমে যাওয়ার কারণে। ফলে নভোচারীদের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়েছে, যেখানে ভাঁজযোগ্য প্লাস্টিক পাত্রে তাদের মূত্র সংগ্রহ করা হয়।
তবুও এসব জটিলতার মাঝেই মিশন ঠিকভাবে এগিয়ে চলছে এবং এখন এটি ১০ দিনের ঐতিহাসিক যাত্রার পঞ্চম দিনে পৌঁছেছে।
নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং জেরেমি হ্যানসেন একটি ছোট কেবিনে অবস্থান করছেন—আকারে যা অনেকটা একটি ক্যাম্পার ভ্যানের মতো, প্রায় ৫ মিটার চওড়া ও ৩ মিটার উঁচু।
ক্রিস্টিনা কখ হাস্যরসের সুরে জানান, ‘আমি নিজেকে মহাকাশের প্লাম্বার বলতে ভালোবাসি—কারণ এই ব্যবস্থাটাই সম্ভবত মহাকাশযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
নাসা জানায়, বর্জ্য নির্গমনের ভেন্ট লাইনে বাধা তৈরি হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দেয়।
সমাধানের জন্য নভোচারীরা মহাকাশযানকে এমনভাবে ঘোরান, যাতে ভেন্টটি সূর্যের দিকে থাকে। এতে করে তাপের কারণে জমে থাকা অংশ গলে যেতে পারে। এতে তাদের যাত্রাপথে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
কিছুটা জায়গা খালি করা গেলেও সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়নি। প্রকৌশলীরা এখনো ভেন্ট হিটার ব্যবহার করে বরফ গলানোর চেষ্টা করছেন এবং ভেন্টকে সূর্যের দিকে ধরে রাখার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাসা জানিয়েছে, ‘টয়লেট এখনো চালু রয়েছে এবং ট্যাঙ্কও পূর্ণ হয়নি, তবে প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিশন ব্যবস্থাপনা দলের প্রধান জন হানিকাট বলেছেন, ‘টয়লেট নিয়ে মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিক—পৃথিবীতে এটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, মহাকাশে সেটি সামলানো আরও কঠিন।’
রবিবার এক সাক্ষাৎকারে নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজাকম্যান জানান, ‘মহাকাশে আমরা অনেক অসাধারণ কাজ করতে পারি, কিন্তু এই ব্যবস্থাটিকে নিখুঁত করা এখনো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’
আর্টেমিস-২ এখন এমন একটি পথে এগোচ্ছে, যা নভোচারীদের চাঁদের অদেখা পাশ ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ল।
এই চার সদস্যের দল চাঁদে নামবে না, বরং প্রদক্ষিণ করবে—যা ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করবে।
এই মিশনে তারা ওরায়ন মহাকাশযানের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিজ হাতে নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে এর সক্ষমতা যাচাই এবং ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া।















